চলমান সংঘাতের মধ্যেই সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে বিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করতে তারা ‘দেশীয়ভাবে তৈরি’ গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে বলেও দাবি করেছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াইয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ইয়েমেনের জনগণ ও দেশের বিরুদ্ধে নৃসংশ আগ্রাসনের মধ্যে, সৃষ্টিকর্তার সহায়তা ও কৃপায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী মারিব প্রদেশের আকাশসীমায় দেশটির সামরিক তৎপরতাকে সমর্থন করে শত্রুতামূলক অভিযান পরিচালনার সময় একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, দেশীয়ভাবে তৈরি আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪৫০টি বিমান হামলা চালিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়ে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার মুসলিমদের পবিত্র মক্কা নগরীতে ড্রোন হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের যে দাবি করেছে, তাও অস্বীকার করেন হুথির এই মুখপাত্র।
সৌদির এ অভিযোগকে ‘ঘৃণ্য মিথ্যা’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘মক্কায় হামলার দাবি একটি ঘৃণ্য মিথ্যা। যা এরআগেও দাবি করা হয়েছে। কিন্তু এখন এমন দাবি আর কাউকে ভুল বোঝায় না। আমাদের অভিযানগুলোর লক্ষ্য তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি।’
কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছিল, ইয়েমেনের হুথিদের ছোড়া একটি ড্রোন মক্কার সংরক্ষিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই তারা তা প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।
হুথিদের এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইয়েমেন ও সৌদি আরবকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। মারিব ইয়েমেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল এবং দেশটির দীর্ঘদিনের সংঘাতের অন্যতম প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র। ফলে সেখানে সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি সত্য হলে তা ইয়েমেন সংঘাতে সামরিক পরিস্থিতির নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা
এমএইচআর




