ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের অত্যাধুনিক বোমা, গাইডেন্স কিট ও সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে জানায়, সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার মূল্যের মধ্যে রয়েছে- নির্ভুল লক্ষ্যভেদী বোমা ‘জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশনস-এক্সটেন্ড রেঞ্জ’ (জেডিএএম-ইআর)-এর ১০ হাজারের বেশি কিট ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম।
চুক্তিটির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং।
বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলছে, ‘এই অস্ত্র সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে মার্কিন ও অন্যান্য উপসাগরীয় অংশীদারদের সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সমন্বয় বাড়াতেও এসব সরঞ্জাম ভূমিকা রাখবে।’
এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং ইরানি বাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হচ্ছে সৌদি আরব।
এদিকে বোমা বিক্রি ছাড়াও একই সময়ে সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৭৫ কোটি ডলার মূল্যের ৬০টি ‘এজিটি-১৫০০’ ট্যাংক ইঞ্জিন বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদনও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে হানিওয়েলকে।
তবে এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর প্রস্তাবটি কংগ্রেসকে জানিয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই চুক্তিটি বাস্তবায়নের পথ খুলবে।
প্রসঙ্গত, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এ সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটন-রিয়াদ সামরিক সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে ওয়াশিংটন একদিকে পারস্য উপসাগর রক্ষার দায়িত্ব পরোক্ষভাবে রিয়াদের কাঁধে দিচ্ছে, অন্যদিকে এই অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখছে।
এমএইচআর




