শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

মক্কা জোটে থাকলেই কি যুদ্ধে যেতে বাধ্য?

অভিবাসন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

মক্কা জোটে থাকলেই কি যুদ্ধে যেতে বাধ্য?

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। 

ফলে চুক্তিতে যুক্ত হলে আক্রান্ত দেশের পক্ষে সামরিকভাবে যুদ্ধে নামতে হবে কিনা—এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। খবর বিবিসির।

তবে চুক্তিতে নির্দিষ্টসংখ্যক সেনা, অস্ত্র বা যুদ্ধবিমান পাঠানোর বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। তাহলে মক্কা জোটে থাকলেই কি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়? বিষয়টা মোটেও এরকমও নয়। এখানে দুটি উদাহরণ আছে।

প্রথমটি হচ্ছে, একই ধরনের একটা প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে। যেটা স্বাক্ষর হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু এরপর সৌদি আরব ইরানের হামলার মুখে পড়লেও পাকিস্তানকে সৌদি আরবের পক্ষে যুদ্ধ করতে হচ্ছে না।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বাংলাদেশ নিজেও গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের উদ্যোগে একটি সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হয়। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা। 

কিন্তু বাব আল-মান্দেবে হুতিদের আক্রমণ হলেও বাংলাদেশকে সেখানে যুদ্ধ করতে হয়নি, সৈন্যও পাঠাতে হয়নি।

মক্কা জোট নিয়ে জানতে চাইলে তুরস্কের সমরবিশারদ ও হাসান কালিয়ানকু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক মুরাত আসলান বলেন, এই প্যাক্ট মূলত আত্মরক্ষামূলক চুক্তি। ফলে এই জোটে থাকলেই যে যুদ্ধ করতে হবে, ব্যাপারটা তেমন নয়।

‘আপনি এটাকে যদি শুধু সামরিকভাবে দেখেন তাহলে ভুল হবে। কারণ, এটা আসলে কোনো আক্রমণাত্মক জোট নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক। 

এই জোটের কোনো নির্দিষ্ট শত্রু দেশ নেই। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হচ্ছে, জোটের দেশগুলো নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করবে না। এবং তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে।’

একইসঙ্গে মক্কা প্যাক্টকে ন্যাটোর মতো করে এখনই দেখার সুযোগ নেই বলেও মত দেন তিনি।

‘আমি মনে করি না যে এটা একটা নতুন ন্যাটো। কারণ এখানে ন্যাটোর মতো কোনো কমান্ড স্ট্রাকচার নেই, কোনো সেনাবাহিনীও নেই। 

তাছাড়া এরকম চুক্তি সৌদি-পাকিস্তানের মধ্যেও রয়েছে। সেখানে আমরা দেখি, সৌদি আরব ইরানের হামলার শিকার হলেও পাকিস্তানকে কিন্তু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হয়নি। তবে হ্যাঁ, চুক্তিতে কী আছে, সেটা আমরা বিস্তারিত জানি না।’

তিনি মনে করেন, একটা বৃহত্তর জোট হলে এবং সেই জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা থাকলে সেটা অন্য কোনো দেশের হামলাকে এমনিতেই নিরুৎসাহিত করবে।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর