ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া নতুন সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে মার্কিন ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে তেহরান।
চাপিয়ে দেওয়া নতুন এ সব নিষেধাজ্ঞা মেনে না নেওয়ার জন্য বিশ্বের সব দেশের কাছে আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। খবর প্রেস টিভির।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এই অন্যায় 'আবদার' মেনে চলার অর্থ হলো আন্তর্জাতিক আইন ভাঙায় হাত মেলানো এবং অন্য একটি দেশের ক্ষমতাকে ছোট করা।
গত সোমবার ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ বা অর্থনীতি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অজুহাতে ইরানের ওপর একঝাঁক নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে ওয়াশিংটন।
ইরান জানায়, যুদ্ধে নিজেদের ইচ্ছা পূরণ করতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্র এখন এই পথ ধরেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ডলারের প্রভাব দেখিয়ে অন্য দেশগুলোকে ভয় দেখাচ্ছে, যাতে সবাই তাদের কথা শুনে চলে।
কিন্তু আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই।
তেহরানের অভিযোগ, গত দেড় বছর ধরে ভুয়া অহেতুক বাহানা বানিয়ে ইরানকে চেপে ধরতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা ও চক্রান্ত চালিয়ে আসছে।
এই নতুন নিষেধাজ্ঞা সেই চক্রান্তেরই অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এত অন্যায় করার পরও জাতিসংঘ ও অন্যান্য বড় বড় দেশ নীরব ভূমিকা পালন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাধারণ ইরানি মানুষদের কষ্ট দেওয়া এবং তাদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এসব নিয়ম তৈরি করা হয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের সামিল।
আন্তর্জাতিক আদালত আগে খাবার ও ওষুধের মতো জরুরি জিনিসে বাধা দিতে নিষেধ করলেও আমেরিকা তা কানে তুলছে না।
তাই যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক চালিয়াতি পুরোপুরি বেআইনি দাবি করে বিশ্বের সব দেশকে তা উড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের চাপ বা হামলা রুখে দিতে ইরানি জনগণ একজোট রয়েছে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়।
-এমএমএস




