চলতি মাসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত নতুন প্রতিরক্ষা জোটে (মক্কা চুক্তি) বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের গুঞ্জন নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ভারত।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান— সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক জোট এবং এতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার গুঞ্জনটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব ফেলবে?
জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আর কিছু বলার নেই’।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
এর আগে ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে তার অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে যে প্রশ্নটি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমার আপাতত কিছুই বলার নেই। আমার কাছে কোনো আপডেট থাকলে তা আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।’
আরেক সাংবাদিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বর্তমান অবস্থা জানতে চান।
জবাবে জয়সওয়াল স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নদী-সম্পর্কিত সব বিষয় যৌথ নদী কমিশনের আওতায় আলোচনা হয়। পাশাপাশি গঙ্গা পানি চুক্তির অধীনে যৌথ কমিটির বৈঠকও কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ হলো— সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় সম্মিলিত প্রতিরক্ষা চুক্তি।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় এই তিন দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব—সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এই চুক্তির প্রধান শর্ত হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে বাকি দুই দেশ তাকে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে, যা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ‘আর্টিকেল-৫’ এর মতো একটি যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এই জোটে যোগদানের কোনো আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ইঙ্গিত দিয়েছেন, বদলে যাওয়া আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যেকোনো জোটে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেবে।
ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বড় উদ্বেগের জায়গা হলো পাকিস্তান। এখন বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানের সামরিক অংশীদারিত্বের জোটে যোগ দেয়, তবে তা দিল্লির জন্য অস্বস্তির বড় কারণ হবে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপর দিল্লির যে একচেটিয়া আঞ্চলিক প্রভাব ছিল, তা ধীরে ধীরে শিথিল হচ্ছে। তুরস্কের কাছ থেকে বাংলাদেশের অস্ত্র কেনা বৃদ্ধি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করার বিষয়গুলোকে তারা সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছেন।
এমএইচআর




