শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

তিন শক্তিশালী মুসলিম দেশের সামরিক জোট কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

শেয়ার করুন:

‘তিন শক্তিশালী মুসলিম দেশের সামরিক জোট কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্ব রাজনীতির ভরকেন্দ্র যখন ওয়াশিংটন বা বেইজিং থেকে ক্রমশ বহুমাত্রিক আঞ্চলিক জোটের দিকে ঝুঁকছে, ঠিক তখনই সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তৈরি হলো মুসলিম বিশ্বের এক নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ। ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী তিন দেশ- সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। এই চুক্তির আওতায় এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা জোটের সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে, যা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ‘আর্টিকেল-৫’ এর মতো একটি যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) মক্কার আল-সাফা প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে এই চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অধিকাংশই এটিকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলে অভিহিত করতে শুরু করেছেন, যা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং সমগ্র বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা রাখে।

তাদের মতে, চলমান ইরান যুদ্ধ এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির তীব্র সংকটের পটভূমিতে এই জোট শুধু একটি সামরিক চুক্তি নয়, রিয়াদের অফুরন্ত পেট্রো-ডলার ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব, আঙ্কারার ন্যাটোভুক্ত অত্যাধুনিক ড্রোন ও সামরিক প্রযুক্তি এবং ইসলামাবাদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা ও যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত বিশাল সামরিক জনবলের এই ত্রিমুখী রসায়ন বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন পরাশক্তির জন্ম দিয়েছে। 

image

মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের নতুন বার্তা

বহু দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল কারিগর ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এই চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সম্পাদিত হয়েছে, ওয়াশিংটনের প্রতি একটি স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন এর বার্তা হলো—আঞ্চলিক শক্তিগুলো এখন আর তাদের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন ‘নিরাপত্তা গ্যারান্টি’র ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন এই অঞ্চলে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত বা লোহিত সাগরের হুতি সংকট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে, তখন এই তিন দেশ নিজেদের সুরক্ষায় ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বেছে নিয়েছে। তুরস্ক ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি হওয়া সত্ত্বেও এই জোটে যোগ দেওয়ায় প্রমাণিত হয় যে, আঙ্কারা এখন আর মার্কিন বা পশ্চিমা নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য নয়।

জার্মান মার্শাল ফান্ড অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস-এর দক্ষিণ ও বৃহত্তর ইউরোপীয় কার্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক ওজগুর উনলুহিসারসিক্লি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি এমন এক সময়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করছে, যখন বিদ্যমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর থেকে দেশগুলোর আস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।’

তার মতে, এই তিন দেশ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর জোর দেবে, যা ওয়াশিংটনকে বার্তা দেয়- মধ্যপ্রাচ্যে তাদের একক আধিপত্যের দিন শেষ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন এই নতুন ব্লকের স্বার্থ ও ইচ্ছাকে সমীহ করেই এই অঞ্চলের নীতি নির্ধারণ করতে হবে।

ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে ঐকমত্য

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে একের পর এক হামলা চালিয়েছে, এই জোট তার বিরুদ্ধে একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক ধাক্কা। এটি ইসরায়েলকে বার্তা দেয় যে, তাদের যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপের জবাব দিতে মুসলিম বিশ্বের তিনটি বৃহত্তম সামরিক শক্তির সমন্বিত প্রতিরোধ প্রস্তুত রয়েছে।

যদিও চুক্তি স্বাক্ষরকারী তিন দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি, তবুও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে এই শক্তিশালী অক্ষের আত্মপ্রকাশ ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে একটি অত্যন্ত বড় কৌশলগত এবং ভূরাজনৈতিক সতর্কবার্তা। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েল এতদিন মধ্যপ্রাচ্যের বিভক্ত মুসলিম দেশগুলোর সুযোগ নিয়ে একক আধিপত্য বজায় রেখেছিল। কিন্তু ইসরায়েল যদি ভবিষ্যতে সৌদি আরব বা এই জোটের কোনো সদস্য দেশের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা চালায়, তবে তাকে একযোগে তুরস্ক এবং পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তানের সামরিক শক্তির মুখোমুখি হতে হবে, যা তেলআবিবের একার পক্ষে কঠিন। 

অন্যদিকে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ‘আব্রাহাম চুক্তির’ মাধ্যমে সৌদি আরবের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল, এই চুক্তি তা কার্যত নস্যাৎ করে দিল। সৌদি আরব মার্কিন নিরাপত্তা গ্যারান্টির ওপর ভরসা না করে মুসলিম বিশ্বের দুই প্রধান সামরিক শক্তির সাথে জোট গঠন করায় স্পষ্ট যে, তারা ইসরায়েলকে একটি বড় আঞ্চলিক হুমকি হিসেবেই দেখছে।

ইরানের জন্য ‘মক্কা চুক্তির’ মানে কী?

চলমান ইরান যুদ্ধ এবং তেহরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরে সৌদি তেল ট্যাংকারের ওপর ‘সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা’ ও তেল অবকাঠামোতে হামলার পটভূমিতে ইরানের জন্য এই জোটের অত্যন্ত গভীর ও সংবেদনশীল অর্থ রয়েছে। একই সঙ্গে এই জোটটি মূলত তিনটি প্রধান সুন্নি-প্রধান দেশের মধ্যে গঠিত হওয়ায় এটি পারস্য উপসাগরে ইরানের ক্রমবর্ধমান শিয়া-প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ‘কাউন্টার-ব্যালেন্স’ বা ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করে।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, ইরানের জন্য সবচেয়ে জটিল বিষয় হলো তুরস্ক ও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ। ইরানের প্রতিবেশী দেশ এবং দীর্ঘদিনের বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও, সৌদি আরবকে পারমাণবিক ছাতার নিরাপত্তা দিতে এই চুক্তিতে সই করেছে পাকিস্তান। অন্যদিকে ন্যাটোর শক্তিশালী সদস্য তুরস্ক ইরানের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখলেও, দামেস্ক ও বৈরুতে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধির কারণে এই জোটে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে মক্কা চুক্তির ‘সম্মিলিত প্রতিরক্ষা’ ধারার কারণে ইরান এখন আর তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো দিয়ে সৌদি আরবে একতরফা হামলা চালাতে পারবে না। কারণ, হুথিদের যেকোনো বড় আক্রমণ এখন তুরস্ক এবং পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হবে। 

অন্যদিকে এই মক্কা চুক্তি যখন সই হচ্ছে, ঠিক তখনই ইরান ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে, যাতে হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকে এবং তারা সেখান থেকে ৭ শতাংশ শুল্ক আদায় করতে পারে। 

বিশ্লেষকদের মতে, মক্কা চুক্তির পর এই জলপথ ব্লকেডের বিষয়ে ইরানকে অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে, কারণ সৌদি ও তুর্কি নৌবাহিনী এই রুটের নিরাপত্তার জন্য যৌথ নৌ-সহযোগিতা গড়ে তুলবে।

তুর্কি ও সৌদি কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে তৈরি সামরিক অক্ষ নয়। তারা কাতার বা মিসরের মতো অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য এই জোটের দরজা খোলা রেখেছেন। তাত্ত্বিকভাবে ইরান যদি তার প্রক্সি হামলা বন্ধ করে এই জোটে যোগ দিতে চায়, সেই সুযোগও রয়েছে। 

তবে বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় ইরান এই জোটকে নিজের জন্য একটি সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করছে।

মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজাই দাবি করেছেন, এই চুক্তি সৌদি আরবকে নিরাপত্তা দেবে না। যদি তারা নিরাপত্তা চায় তাহলে তাদের নীতি পরিবর্তন করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘সৌদিদের অবশ্যই জানা উচিত তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কাগুজে চুক্তি তাদের নিরাপত্তা দেবে না। যেমনটা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বছরের পর বছর একপাক্ষিক সম্পর্ক তাদের কোনো নিরাপত্তা এনে দেয়নি। আপনারা (সৌদি আরব) নিজেদের নীতিতে সংস্কার আনুন যেন অন্যদের কাছে নিরাপত্তা ভিক্ষা না চাইতে হয়।’

আরও পড়ুন

পাকিস্তান কি আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা অংশীদার হয়ে উঠছে?

পাকিস্তান কি সৌদি আরবকে পারমাণবিক সুরক্ষা দেবে?

ভারতের অস্বস্তি বাড়ল

দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক পরাশক্তি ভারতের জন্য এই জোট এক চরম অস্বস্তির এবং নতুন কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক মনে হলেও, এর অন্যতম প্রধান অংশীদার পাকিস্তানের উপস্থিতি এবং মুসলিম বিশ্বের এই নতুন সামরিক মেরুকরণ দিল্লির নীতিনির্ধারকদের গভীরভাবে চিন্তিত করে তুলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটে জর্জরিত ছিল। কিন্তু সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে এই আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পর ইসলামাবাদের সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক ওজন বহুগুণ বেড়ে গেছে। পাকিস্তান যদি পশ্চিমা সীমান্তে সুরক্ষিত থাকে এবং সৌদির আর্থিক সমর্থন পায়, তবে তারা ভারতের বিরুদ্ধে আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে পারবে।

এছাড়াও তুরস্ক ও পাকিস্তান ঐতিহ্যগতভাবেই কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের সমালোচনা করে আসছে। এখন এই সামরিক ব্লকের কারণে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে এই দেশগুলোর সুর আরও জোরালো হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার গত এক দশকে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে চমৎকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক তৈরি করেছিল। নয়া দিল্লি আশা করেছিল, এই বন্ধুত্বের কারণে সৌদি আরব কাশ্মীরের মতো দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে পাকিস্তানের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। কিন্তু মক্কা চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব পাকিস্তানের সাথে তাদের ঐতিহাসিক ‘সামরিক ও কৌশলগত’ সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করল, যা ভারতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বড় ধাক্কা।

ভারতকে এখন মধ্যপ্রাচ্যে তার অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং নিজের জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে তীব্র বেগ পেতে হবে।

অন্যদিকে ভারত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও সামরিক প্রযুক্তির সাফল্য নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিল; বিশেষ করে আজারবাইজান-আর্মেনিয়া যুদ্ধে তুর্কি ড্রোনের কার্যকারিতা দেখার পর। এখন তুরস্কের উন্নত প্রযুক্তি, সৌদি আরবের অর্থ এবং পাকিস্তানের বিশাল সামরিক বাহিনী যদি এক ছাতার নিচে চলে আসে, তবে দক্ষিণ এশিয়া এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্যে পাকিস্তানের পাল্লা ভারী হতে পারে, যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা, মিডল ইস্ট মনিটর


এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর