ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের প্রধান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র বা ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ফেলেছে, যা পেন্টাগনের শীর্ষ কমান্ডারদের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাতে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দূরপাল্লার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিতে সক্ষম যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘টার্মিনাল হাই অল্টিচিউড এরিয়া ডিফেন্স’ (থাড) ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
এছাড়াও ইরানি ড্রোন এবং মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ও মিত্রদের ঘাঁটি রক্ষায় নিয়োজিত প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার প্রায় ৫০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক বাহিনী।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগের প্রায় ২ হাজার ৩৩০টি প্যাট্রিয়টের মজুত কমে এখন ১ হাজারের নিচে নেমে এসেছে। আর থাড ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ছিল ৪৫২টি, কমে ১০০টিরও নিচে নেমে এসেছে।
এর আগের এক প্রতিবেদনে সিএনএন বলেছিল, যুদ্ধের শুরুর দিকে গত এপ্রিলে মার্কিন সামরিক বাহিনী টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।
এদিকে রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রই নয়, মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের অতি নির্ভুল দূরপাল্লার ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপ যোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র—এটিএসিএমএস এবং পিআএসএম- এর বৈশ্বিক মজুতের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করে ফেলেছে।
সিএনএন আরও জানিয়েছে, সামরিক উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে অস্ত্রাগার ‘বিপজ্জনকভাবে খালি’ হওয়ার এই সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই গত সপ্তাহে ইরানের বড় ধরনের হামলা থেকে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যদিও তিনি দাবি করেছিলেন, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে ইরানে বড় হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
তবে সূত্র বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার সময় উপসাগরীয় মিত্ররা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা বলেন, এই ঘাটতি ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, যেসব মধ্যপ্রাচ্যের দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
তারা স্বীকার করেছেন, মজুতের এই সংকট ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকানোর ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব সক্ষমতা ব্যাহত করবে; বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পদক্ষেপের জবাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হলে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর- পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এই সংকটকে বড় কোনো হুমকি হিসেবে মানতে নারাজ। তার দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রাগার অত্যন্ত গভীর এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো সময় সফল অভিযান চালানোর পূর্ণ সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্র কারখানাগুলো যুদ্ধের গতির সাথে তাল মিলিয়ে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারছে না, যা ভবিষ্যতে চীনের মতো বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
সূত্র: সিএনএন, এনডিটিভি
এমএইচআর




