মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ইরান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র কী কী অস্ত্র ব্যবহার করছে, খরচ কত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

ইরান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র কী কী অস্ত্র ব্যবহার করছে, খরচ কত?
ইরান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র কী কী অস্ত্র ব্যবহার করছে, খরচ কত?। ফাইল ছবি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিরোধ বহুদিনের। তবে গত শনিবার সেই দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ওই দিন ইরানকে লক্ষ্য করে যৌথ বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের ভূখণ্ডে এই হামলা দুই দেশের পুরনো ও প্রকাশ্য শত্রুতাকে নতুনভাবে উসকে দিয়েছে। ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ চলতে পারে। এই ইঙ্গিতের পর প্রশ্ন উঠেছে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এই যুদ্ধে ওয়াশিংটন কতটা টিকবে এবং এর খরচ কত হতে পারে।


বিজ্ঞাপন


‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ 

২৮ ফেব্রুয়ারি, ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ৮ মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে তিনি ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে একটি ‘বড় যুদ্ধাভিযান’ শুরু করেছে।


বিজ্ঞাপন


পরবর্তীতে পেন্টাগন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানায়, ইরানে চলমান এই সামরিক অভিযানের নাম রাখা হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে যাচ্ছি। তাদের ক্ষেপণাস্ত্রশিল্প মাটিতে মিশিয়ে দেব। এটি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।”

শনিবার অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ১ হাজার ২৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। পৃথক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ১১টি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করেছে।

এই অভিযানে বিমান হামলা, সাগর থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সমন্বিত আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এছাড়া ইরানের প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট সংস্থা ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও লক্ষ্য করা হয়েছে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহতদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শনিবার হামলার প্রথম ধাপে তেহরানে তার কার্যালয় কম্পাউন্ডে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

এরপর সোমবার ট্রাম্প জানান, যত দিন প্রয়োজন, যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ১৩০টি জায়গায় ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের খরচ

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রায় ২,১৭০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ২০২৫ সালের ‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল।

‘কস্ট অব ওয়ার’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলকে সামরিক হামলা চালানোর জন্য সহায়তা দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের খরচ হয়েছে ৯৬৫ কোটি থেকে ১,২০৭ কোটি ডলার।

মোট মিলিয়ে, যুদ্ধ ও সংঘাতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের খরচ বেড়ে ৩,১৩৫ কোটি থেকে ৩,৩৭৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এবং এটি ক্রমেই বাড়ছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে আকাশ, সাগর, ভূমি ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা মিলিয়ে ২০টির বেশি অস্ত্রব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলো ব্যবহার করে ইতিমধ্যে ইরানের হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।

সেন্ট্রাল কমান্ডের সাবেক অভিযান পরিচালক কেভিন দোনেগান আল-জাজিরাকে বলেন, “ইরানিদের আক্রমণের সক্ষমতা যত দ্রুত সম্ভব কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য। যাতে ইরান আর ‘ধ্বংসযজ্ঞ’ চালাতে না পারে।”

এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর