বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

খামেনির জানাজায় অংশ নিয়েছিল ৪ কোটির বেশি মানুষ: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

খামেনির জানাজায় অংশ নিয়েছে ৪ কোটির বেশি মানুষ: ইরান

মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়ার দীর্ঘ ১৩১ দিন পর অবশেষে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সমাহিত করা হয়েছে। জীবদ্দশায় শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)-এর সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ী এই নেতার ছয় দিনব্যাপী জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ৪ কোটি ১০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভি এই শোকযাত্রাকে বিশ্বের ইতিহাসে এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ জনসমাগম ও শোকমিছিল হিসেবে অভিহিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই উপস্থিতি কেবল অনুমানের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়নি। অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে, এর মধ্যে রয়েছে সড়কগুলোতে সক্রিয় থাকা মোবাইল ফোন সিগন্যাল বিশ্লেষণ, মানুষের যাতায়াতে ব্যবহৃত গণপরিবহনের তথ্য এবং রাস্তার আয়তন এবং মানুষের ভিড়ের ঘনত্বের গাণিতিক হিসাব মিলিয়ে।

image

এরআগে গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে খামেনির মরদেহ ইরান ও ইরাকের পাঁচটি প্রধান শহরে নেওয়া হয়। প্রথমে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে জনসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য রাখা হয় খামেনি মরদেহ, যেখানে বিশ্বের ৪৫টিরও বেশি দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি ও ধর্মীয় পণ্ডিতরা অংশ নেন।  

khameni_janaja

পরে দেশটির পবিত্র কোম শহরে দ্বিতীয় জানাজা, শোকযাত্রা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সেখান থেকে বিশেষ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে তার কফিন ইরাকের শিয়া পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় পাঠানো হয়, যেখানে ইমাম আলী (আ.) ও ইমাম হোসেন (আ.)-এর মাজারে লাখ লাখ মানুষ ঐতিহাসিক শোকমিছিলে অংশ নেন। 

সবশেষ বৃহস্পতিবার জন্মভূমি মাশহাদ শহরে পৌঁছায় খামেনির মরদেহ, সেখানে ইমাম রেজা মাজারের পাশে সমাহিত করা হয় টানা ৩৭ বছর ইরান শাসন করা এই নেতাকে। 

এদিকে শোকের এই মহাসমাবেশে খামেনির চার ছেলের মধ্যে তিনজন উপস্থিত ছিলেন— মোস্তফা খামেনি (বড় ছেলে), মাসুদ খামেনি (সেজো ছেলে) এবং মেইসাম খামেনি (ছোট ছেলে)। দাফনের সময় শেষ জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বড় ছেলে মোস্তফা খামেনি। বাকি দুই ছেলেও উপস্থিত ছিলেন, তবে মেজো ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ছিলেন না। পুরো শোক আয়োজনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।

ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা এবং চিকিৎসাধীন থাকায় মোজতবা তার পিতার শোক অনুষ্ঠান এবং জানাজায় আসতে পারেননি মোজতবা। 

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথমদিনে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার নিহত হন প্রায় ৩৬ বছর ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একই হামলায় নিহত হন তার পরিবারের আরও অনেক সদস্য। তবে মারাত্মক বাহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। 

সূত্র: আলজাজিরা, ডন


এমএইচআর

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর