শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ঢাকা

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৫ বিলিয়ন নাকি ১ ট্রিলিয়ন ডলার?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ মে ২০২৬, ০৮:১১ এএম

শেয়ার করুন:

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ব্যয় ২৫ বিলিয়ন নাকি ১ ট্রিলিয়ন ডলার
সংগৃহীত ছবি

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ব্যয় নিয়ে এখন চলছে তীব্র বিতর্ক। পেন্টাগনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধের খরচ এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু অনেক আইনপ্রণেতা ও অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, এই সংখ্যা বাস্তবতার তুলনায় অনেক কম। তাদের মতে, সরাসরি ও পরোক্ষ মিলিয়ে এই যুদ্ধের ব্যয় ৬৩০ বিলিয়ন থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বৃহস্পতিবার আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ব্যয় নিয়ে বিতর্কটি সম্প্রতি ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে সামনে এসেছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদলীয় ডেমোক্র্যাটদের কিছু বক্তব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিকে দুর্বল করছে। তবে ডেমোক্র্যাট নেতারা তার বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন এবং যুদ্ধের প্রকৃত খরচ নিয়ে আরও স্বচ্ছতা দাবি করেছেন।


বিজ্ঞাপন


পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক জে হার্স্ট জানান, ২৫ বিলিয়ন ডলারের এই হিসাব মূলত যুদ্ধ পরিচালনার সরাসরি খরচ— যেমন: গোলাবারুদ, অস্ত্র ব্যবহার ও সামরিক রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ধরা হয়েছে। কিন্তু সমালোচকেরা বলছেন, এই হিসাব বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রভাবকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করছে।

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খানা প্রশ্ন তোলেন— জ্বালানি ও খাদ্যের বাড়তি দামের প্রভাব কি এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয়েছে? ইরানের ওপর অবরোধ ও হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ২৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যুদ্ধের আগের তুলনায় এটি প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ আমেরিকানদের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে গেছে। এক জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্টির হার কমে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। রো খানা দাবি করেন, শুধু জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রায় ৬৩১ বিলিয়ন ডলারের চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা প্রতি পরিবারে গড়ে প্রায় ৫ হাজার ডলার।

অন্যদিকে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ লিন্ডা বিলমেস আরো বড় অঙ্কের পূর্বাভাস দিয়েছেন। তার মতে, এই যুদ্ধের মোট ব্যয় শেষ পর্যন্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তিনি মনে করিয়ে দেন, যুদ্ধের প্রকৃত খরচ শুধু বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রে সীমাবদ্ধ নয়।


বিজ্ঞাপন


যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো পুনর্গঠনও বড় ব্যয়ের কারণ। ইরানের পাল্টা হামলায় কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর মেরামতেই প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে।

এ ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে আরো অনেক ব্যয় যুক্ত হবে— যেমন: আহত সৈন্যদের চিকিৎসা, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্বাসন এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করা। বিলমেস বলেন, ইতিহাস বলছে, যুদ্ধের খরচ প্রায়ই প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি হয়। যেমন ইরাক যুদ্ধের সময় প্রথমে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় কত— এটি নির্ভর করছে দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। পেন্টাগন যেখানে তাৎক্ষণিক সামরিক খরচকে গুরুত্ব দিচ্ছে, সেখানে সমালোচকেরা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবকে হিসাবের মধ্যে আনতে বলছেন। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার— এই যুদ্ধের আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই।

এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর