যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় হামলা চালালে মার্কিন অবস্থানগুলোর ওপর ‘দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক হামলা’ চালানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক কমান্ডার। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি, যা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি পুনরায় চালু করার জন্য একটি জোট গঠনের মার্কিন পরিকল্পনাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
মূলত, বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত অবসানে আলোচনায় বসতে ইরানকে বাধ্য করার লক্ষ্যে দেশটিতে নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনা বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান ব্র্যাড কুপারের কাছ থেকে একটি ব্রিফিং গ্রহণ করবেন।
বিজ্ঞাপন
একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেন্টকম ইরানের বিরুদ্ধে ‘স্বল্পস্থায়ী এবং শক্তিশালী’ হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনায় ইরানের অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- হরমুজ প্রণালির একাংশ দখল করা; যাতে এটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া যায়। এই অভিযানে স্থল বাহিনীও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইরানের গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার মাজিদ মুসাভি এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, “ইরানের ওপর যেকোনো মার্কিন হামলা, এমনকি তা সীমিত হলেও- আঞ্চলিক মার্কিন অবস্থানগুলোর ওপর ‘দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক আঘাতের’ সূচনা করবে।”
তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের (যুক্তরাষ্ট্র) আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোর কী অবস্থা হয়েছে তা আমরা দেখেছি, আপনাদের যুদ্ধজাহাজগুলোর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে দেখতে পাবো।’
বিজ্ঞাপন
এদিকে বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে এক লিখিত বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নতুন ব্যবস্থাপনার অধীনে তেহরান নৌপথটিতে শত্রুদের অপব্যবহার নির্মূল করবে।
যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লজ্জাজনক ব্যর্থতার পর পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণাণিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। আল্লাহর সাহায্যে ও শক্তিতে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হবে যুক্তরাষ্ট্রবিহীন এক ভবিষ্যৎ, যা এখানকার জনগণের অগ্রগতি, স্বাচ্ছন্দ্য ও সমৃদ্ধিতে নিয়োজিত থাকবে।’
খামেনি আরও বলেন ‘পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের জলরাশির ওপারে আমরা এবং আমাদের প্রতিবেশীরা একই ভাগ্যের অংশীদার। হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে লোভ ও বিদ্বেষ নিয়ে সেখানে কাজ করতে আসা বিদেশিদের সেখানে কোনো স্থান নেই, সাগরের তলদেশ ছাড়া’।
পৃথকভাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর




