শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানে আসছেন উইটকফ-কুশনার, চুক্তি কি হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

শেয়ার করুন:

শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানে আসছেন উইটকফ-কুশনার, চুক্তি কি হবে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা আবার শুরু করার প্রস্তাব নিয়ে বৈঠক করতে গতকাল শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আলোচনা করতে ইসলামাবাদে আসছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং তার বিশেষ দূত স্টিফ উইটকফ। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার সকালে (বাংলাদেশের স্থানীয় সময় শনিবার রাতে) ওয়াশিংটন থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হবেন তারা। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলা আট সপ্তাহের যুদ্ধে এ পর্যন্ত বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, বিশ্ববাজারে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। এই আলোচনাকে সামনে রেখে সংকট সমাধানে কিছুটা আশা দেখা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ইরান এমন একটি প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো পূরণ হবে। তবে সে প্রস্তাবে কী কী রয়েছে, তা তিনি এখনো জানেন না।


বিজ্ঞাপন


যুক্তরাষ্ট্র কার সঙ্গে আলোচনা করছে— এ প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তা বলতে চাই না, তবে বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছেন, আমরা তাদের সঙ্গেই আলোচনা করছি।’

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন, কিন্তু ইরানি কর্মকর্তাদের মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। ইরান নিজেদের উদ্বেগগুলো পাকিস্তানকে জানাবে।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা এবং ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় দুই দেশকেই মূল্য দিতে হচ্ছে। ইরানের তেল রফতানি বন্ধ হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই বিবৃতি দেওয়ার আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, উইটকফ ও কুশনার শনিবার (আজ) সকালে ইসলামাবাদে যাবেন এবং আরাগচির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন।


বিজ্ঞাপন


তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ইরানের পক্ষ থেকে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। এ সপ্তাহান্তে আরো অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন বলে জানান লেভিট। এ মাসের শুরুতে ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যে শান্তি আলোচনা হয়েছিল, সেখানে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভ্যান্স। ইরান যুদ্ধ অবসানে টানা ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও সেবার কোনো সমঝোতায় উপনীত হওয়া সম্ভব হয়নি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির পর রয়টার্স থেকে হোয়াইট হাউসে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু সাড়া মেলেনি।

তবে সম্ভাব্য আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপক ও নিরাপত্তা দল আগে থেকেই ইসলামাবাদে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে কয়েকটি পাকিস্তানি সূত্র।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরাগচির ইসলামাবাদে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ উপলক্ষে শহরের কেন্দ্রজুড়ে ব্যাপক সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেছে।

পাকিস্তানের দুটি সরকারি সূত্র বলেছে, আরাগচি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করতে সরাসরি সেরেনা হোটেলে যান। এই হোটেলেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

কাতারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার প্রতি তার দেশের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আরাগচি এক্স পোস্টে লিখেছেন, দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করতে এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে তিনি পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়া সফর করছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পরে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, এই সফরে যেসব আলোচনা হবে, তার মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার সর্বশেষ প্রচেষ্টাগুলো নিয়ে পরামর্শও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, ইরানের হাতে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘ভালো চুক্তি করার সুযোগ’ রয়েছে। দ্বিতীয় দফায় এই শান্তি আলোচনা গত মঙ্গলবার শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি। সেবার ইরান জানিয়েছিল যে তারা আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত না, আর ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলও ওয়াশিংটন ত্যাগ করেনি।

এদিকে গতকালও বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে অস্থিরতা বিরাজ করেছে। সম্ভাব্য আলোচনার প্রেক্ষাপটের ভেতরও ব্যবসায়ীরা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেলসংকটজনিত বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছেন।

গতকাল ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স প্রতি ব্যারেল ১০৫ দশমিক ৩৩ ডলারে স্থির হয়েছে, যা প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচার্স ১ শতাংশ কমে ৯৪ দশমিক ৮৮ ডলারে নেমে এসেছে।


এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর