ইরান বিরোধী সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করায় স্পেনকে ন্যাটো থেকে বের করার মার্কিন হুমকির মুখে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) নিকোসিয়ায় এক শীর্ষ সম্মেলনে তিনি স্পেনকে ন্যাটোর একটি ‘নির্ভরযোগ্য সদস্য’ হিসেবে দাবি করে বলেন, পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ ইমেইলের ভিত্তিতে সৃষ্ট এই গুঞ্জন নিয়ে তিনি একেবারেই উদ্বিগ্ন নন এবং স্পেন আন্তর্জাতিক আইন মেনেই তার সব দায়িত্ব পালন করছে। খবর রয়টার্সের।
বিজ্ঞাপন
এএফপি জানায়, একজন মার্কিন সরকারি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে এমন সম্ভাব্য শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করা ন্যাটো দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।
এর মধ্যে স্পেনকে ন্যাটো থেকে স্থগিত করার সম্ভাবনাও বিবেচনায় আছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়। তবে নিকোসিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সানচেজ বলেন, স্পেন ন্যাটোর একটি নির্ভরযোগ্য সদস্য এবং আমরা আমাদের সব দায়িত্ব পালন করছি।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কী করবে? তা নিয়ে আমি একেবারেই উদ্বিগ্ন নই। তিনি স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, তারা কোনো ‘ইমেইলের ভিত্তিতে’ কাজ করেন না।
বিজ্ঞাপন
সানচেজ আরও বলেন, স্পেনের অবস্থান পরিষ্কার, জোটের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা, তবে সবকিছুই আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে। ন্যাটো চুক্তিতে কোনো সদস্য দেশকে স্থগিত বা বহিষ্কারের কোনো স্পষ্ট বিধান নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে ইরান যুদ্ধে অংশ না নেওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানকে তাদের ভূখণ্ড বা ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প ন্যাটোকে নিয়ে আরও কড়া মন্তব্য করেছেন এবং এটিকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলেও উল্লেখ করেছেন।
স্পেন সরকার বলছে, তাদের অবস্থান আন্তর্জাতিক আইন মেনে এবং মিত্রদের সঙ্গে সমন্বিত সহযোগিতার ভিত্তিতে।
-এমএমএস




