পাকিস্তানে যেন অঘোষিত ‘লকডাউন’ চলছে। সেখানকার কয়েকটি সাংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয়েরা ইতোমধ্যেই দাবি করতে শুরু করেছেন, কোভিডের সময় যেমন পরিস্থিতি হয়েছিল, পরিস্থিতি অনেকটা সে রকম।
আর এই পরিস্থিতি মূলত সেদেশের দুই শহর ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতে। রাস্তাঘাট শুনশান, নিয়ন্ত্রিত যান চলাচল, দোকানপাট বন্ধ। এমন দৃশ্য দেখে অনেকেই এই পরিস্থিতিকে কোভিড সময়ের লকডাউনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু কেন ওই দুই শহরে এই পরিস্থিতি? স্থানীয় সাংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান এবং আমেরিকার শান্তিবৈঠকের আয়োজক দেশ পাকিস্তান।
রাজধানী ইসলামাবাদে সেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম দফার বৈঠকের আগে থেকেই রাজধানীকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়। তারপর থেকে সেই পরিস্থিতিই চলছে।
দোকানপাট বন্ধ। শহরের বহু জায়গায় যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতে রাশ টানা হচ্ছে বৈঠকস্থল এবং সংলগ্ন এলাকায়। নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের তরফে এই বিপুল আয়োজন করা হয়েছে।
কিন্তু প্রথম দফার বৈঠকের পরও ইসলামাবাদের ছবিটা বদলায়নি। অনেকে বলছেন, আমেরিকা এবং ইরানের স্বার্থ দেখতে গিয়ে নিজের দেশের লোকজনকে ‘সমস্যা’য় ফেলছে শাহবাজ শরিফের সরকার।
বিজ্ঞাপন
দোকানপাট বন্ধ থাকায়, রাস্তাঘাট অনেক জায়গায় বন্ধ করে রাখায় স্থানীয় মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদন বলছে, গত বেশ কয়েক দিন ধরে ইসলামাবাদের রাস্তাঘাট শুনশান। শহরের রাস্তায় শুধু সেনা আর পুলিশের টহলদারি চলছে।
দোকান বন্ধ, সরকারি পরিবহন বন্ধ, শহরের চাকুরিজীবীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। অনেকে বলছেন, যেন মনে হচ্ছে আবার মহামারী ফিরে এসেছে। কিন্তু এই ‘মহামারী’ কোনো ভাইরাসের কারণে নয়, ইরান এবং আমেরিকার শান্তিবৈঠকের কারণে ‘মহামারী’র চেহারা নিয়েছে ইসলামাবাদ।
অন্যদিকে, রাওয়ালপিন্ডির ছবিটাও এক। এই শহর দেশটির প্রতিরক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। ফলে স্বাভাবিক কারণেই এই শান্তিবৈঠককে কেন্দ্র করে রাওয়ালপিন্ডিকে দুর্গে পরিণত করা হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অঘোষিত ‘লকডাউনের’ যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে দুই শহরে, তাতে দুই শহরের শ্রমিক শ্রেণি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশের পর অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষ করে কাজে যেতে না পারায় অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন।
আরিজ আখতার নামে এক স্বাস্থ্যকর্তা দ্য গার্ডিয়ান-কে বলেন, মনে হচ্ছে আমরা খাঁচায় বন্দি। কাজেও যেতে পারছি না।
মোহাম্মদ জুবাইর নামে এক দিনমজুর বলেন, লকডাউন মানে কাজ বন্ধ। আর কাজ বন্ধ মানেই খাবার বন্ধ। সরকার কি আর গরিব মানুষের কথা চিন্তা করে?
প্রথম দফার বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয় দফার বৈঠকে দুই বিবদমান পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসাতে উদ্যোগী পাকিস্তান।
কিন্তু সেই বৈঠক আদৌ হবে কি-না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু দুই শহরে সরকার অঘোষিত ‘লকডাউন’ জারি করেছে। ফলে জনরোষ বাড়ছে।
-এমএমএস




