রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ, যুদ্ধবিরতির এখন কী হবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

Iran
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মুহূর্ত। চবি- সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান অস্থিরতা দূর করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনায় বসেছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ভেস্তে গেছে সেই আলোচনা। কোনো প্রকার চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ।

শনিবারের (১২ এপ্রিল) হাই প্রোফাইল এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য পরস্পরকে দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ইতোমধ্যে উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন।


বিজ্ঞাপন


যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয় পক্ষই এ আলোচনায় অংশ নিয়েছিল যুদ্ধে তারা জয়ী হয়েছে - এমন দাবি নিয়ে, তাই এত অল্প সময়ে কোনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো স্বাভাবিক বিচারেই কঠিন ছিল।

কিন্তু এখন তাহলে কী হবে? গত বুধবার দুই সপ্তাহের যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা কি বহাল থাকবে? নাকি ফের ইরানে হামলা শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল।

এ ব্যাপারে বিবিসির সংবাদদাতা জো ইনউড বলছেন, ইরানের ওপর নতুন করে হামলা শুরু হবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে হামলার সম্ভাবনা যে নিশ্চিতভাবেই বেড়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।


বিজ্ঞাপন


গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি, যা ইরান আংশিকভাবে কিন্তু কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল, তা আলোচনার মাধ্যমে পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি আপাতত আলোচনার টেবিলের বাইরে রয়ে গেছে। 

কিন্তু পারস্য উপসাগরে কয়েকদিন আগে মোতায়েন করা দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো অন্য কোনো উপায়ের কথা ভাবছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না- এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হওয়াটাই ছিল আলোচনা সফল হওয়ার পথে প্রধান বাধা।

অন্যদিকে ইরান সবসময়ই দাবি করে এসেছে যে, তারা মারণাস্ত্র উৎপাদন করতে চায় না। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে দুটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা হওয়ায় তাদের দেশে পারমাণবিক অস্ত্রের সমর্থকদের এখন পারমাণবিক শক্তি অর্জনে আরো উৎসাহিত করবে।

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি এ আলোচনা ছিল ঐতিহাসিক। কিন্তু এটি হয়তো কূটনীতির একটি ব্যর্থতা হিসেবেই ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তারা ইরানের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তাসহ দেশটির বহু বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। ধ্বংস করেছে বহু স্থাপনা।

পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানও। তারা ইসরায়েলে অনবরত হামলা চালিয়ে সেখানকার বহু স্থাপনা ধ্বংসের পাশাপাশি অকেজো করে দিয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। বন্ধ করে দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি, যেখান দিয়ে বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ জ্বালানি তেল আমদানি-রফতানি হয়।

এর ফলে বিশ্ববাজারে বেড়ে যায় জ্বালানি তেলের দাম। বেড়ে যায় জেট ফুয়েলের দামও। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ-দুবাই-আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের কয়েকশ ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য বাতিল হয়ে যায়।

নাজুক এই পরিস্থিতির মধ্যেও চলমান ছিল যুদ্ধ। অবশেষে ইরানের কঠোর প্রতিরোধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের জেরে এক মাসেরও বেশি সময় পর পিছু হটতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল। গত বুধবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হয় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি।  

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর