বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকায় এবং যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনার কথা ইরান অস্বীকার করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের বাড়ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বা ১ দশমিক ৮৩ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৭৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারসের দাম ২ দশমিক ২১ ডলার বা ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ৩৪ ডলারে পৌঁছেছে।
এরআগে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা পাঁচদিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুদ্ধে বন্ধে ইরানের সাথে ‘খুবই কার্যকর’ আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার এই ঘোষনার জেরে সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১৫ শতাংশের বেশি কমে যায়।
সোমবার (২৩ মার্চ) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা ৮ মিনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বা ১৭ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে নেমে আসে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারসের দাম ১৩ ডলার বা ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে দাড়ায়।
মূলত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলর সাথে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হুমকির কারণে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে আছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের একটি চুক্তি হওয়ার বেশ ভালো সম্ভাবনা আছে... এতে তেলের দাম আরও কমে যাবে। তবে কোনো কিছুর নিশ্চয়তা নেই; আমি কোনো কিছুর নিশ্চয়তা দিচ্ছি না’।
তবে ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ হয়নি বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে যে সমঝোতার আলোচনার কথা বলেছেন, তা সঠিক নয়।’
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘ইরান তার অবস্থানে অটল রয়েছে, আর তা হলো যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের লক্ষ্যসমূহ অর্জিত হওয়ার আগে যেকোনো ধরনের আলোচনা প্রত্যাখ্যান করা।’
এছাড়াও ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয়নি, এমনকি কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও নয়’।
তিনি আরও দাবি করেন, “ইরান উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে—এমন সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই ট্রাম্প ‘পিছু হটেছেন’।”
উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, ইরাক, আরব আমিরাত এবং কুয়েত উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।
এছাড়াও ইরান বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের সমুদ্র পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যা তেলের বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এই যুদ্ধ এখন চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৬৬ ডলার।
বিসিএ রিসার্চ একটি প্রতিবেদনে বলেছে, ‘ইরান সংঘাতে সাময়িক উত্তেজনা হ্রাস দেখা গেলেও হরমুজকে ঘিরে অমীমাংসিত ঝুঁকি রয়ে গেছে। অব্যাহত হামলার ঝুঁকি এবং খবরের শিরোনামের অস্থিরতার কারণে, তেলের দাম কমার সময় এখনও আসেনি।’
এদিকে অস্ট্রেলীয় বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ম্যাকোয়ারি জানিয়েছে, যদি হরমুজ প্রণালীটি এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত কার্যত বন্ধ থাকে, তাহলেও ব্রেন্ট ক্রডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে ২০০৮ সালে সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৪৭ ডলারের রেকর্ডটি ছাড়িয়ে যাবে।
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা
এমএইচআর

