যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয় না আসা পর্যন্ত’ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ড।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা এক ভিডিও বার্তায় দেশটির সামরিক বাহিনীর খাতাম-আল আনবিয়া কেন্দ্রীয় কমান্ডের হেডকোয়ার্টার্সের কর্মকর্তা আলী আবদুল্লাহি আলিয়াবাদী এ ঘোষণা দেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘ইরানের অখণ্ডতা রক্ষায় দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গর্বিত, বিজয়ী এবং অবিচল। পূর্ণাঙ্গ বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই পথচলা অব্যাহত থাকবে।’
তবে ‘পূর্ণ বিজয়’ বলতে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি এই জেনারেল। কিন্তু তবে ধারণা করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো আলোচনায় ছাড় না দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক বার্তা দিতেই ইরানের সামরিক বাহিনী এমন বক্তব্য দিচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলে আরও কঠোর হামলা চালানোর হুমকি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ইসরায়েল যদি লেবানন ও ফিলিস্তিনের বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও কঠোর করা হবে।
আইআরজিসি জানায়, ‘আমরা জায়নবাদী সরকারের অপরাধী সেনাবাহিনীকে এই মর্মে সতর্কবার্তা দিচ্ছি যে লেবানন ও ইসরায়েলের নিরীহ বেসমারিকদের ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। যদি তারা আমাদের সতর্কবার্তায় কর্ণপাত না করে, তাহলে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে আমরা আরও কঠোর হামলা শুরু করব’।
এরমধ্যেই ইরান মঙ্গলবার ইসরায়েলে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বন্ধে ‘খুবই ভালো এবং ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করার মাত্র একদিন পরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ইসরায়েলের বৃহত্তম শহর তেলআবিবে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। শহরের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে বড় ধরনের গর্ত তৈরি হয়েছে। তবে এটি সরাসরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত নাকি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের কারণে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর

