ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে। এতে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এই হামলার পর শহরটির একটি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, আরাদ শহরে ইরানের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কারণেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় মোট ৫৯ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিজ্ঞাপন
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, হামলার সময় আকাশ থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত নিচে নেমে এসে আঘাত হানে, যার ফলে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। ইসরায়েলের কান নামের একটি সম্প্রচারমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে ১০ বছরের এক শিশুও রয়েছে।
একই সময়ে, উত্তর ইসরায়েলের মালোত-তারশিহা এলাকায় আরেক দফা রকেট হামলায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চ্যানেল-১২। প্রতিবেদনে বলা হয়, হিজবুল্লাহ ওই এলাকায় একঝাঁক রকেট নিক্ষেপ করেছে।
এদিকে ইসরায়েলি আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেন ওই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝপথে ধ্বংস করতে (ইন্টারসেপ্ট) ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে তদন্ত করবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের সূত্রে আল-জাজিরা এই খবর দিয়েছে।
আরও পড়ুন
ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করল ইরান!
ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে?
এর আগে নিজেদের আকাশসীমায় ইসরায়েলের একটি যুদ্ধবিমান সফলভাবে ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে ইসরায়েল বিষয়টি স্বীকার করেছে। খবর আল-জাজিরার।
শনিবার (২১ মার্চ) ইরানের আইআরজিসি জানায়, তারা ইরানের মধ্যাঞ্চলের আকাশে একটি ইসরায়েলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। এটি ইসরায়েলের তৃতীয় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, যা গত তিন সপ্তাহে তারা ভূপাতিত করেছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে অনুপ্রবেশকারী ওই যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে তাদের আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভূমিকা রেখেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এখন পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি শত্রুপক্ষের আকাশযান—যার মধ্যে ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল ও উন্নত যুদ্ধবিমান রয়েছে—লক্ষ্য করে ধ্বংস করা হয়েছে। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) মার্কিন সর্বাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে ইরান।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। দেশটি বলছে, তাদের যুদ্ধবিমানের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
জেবি

