মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

শেয়ার করুন:

চলতি সপ্তাহে ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

চলতি সপ্তাহেই ইরান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের লক্ষ্য করে দেশটিতে ব্যাপক হামালার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জন্য প্রয়োজনীয় সামারিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের সরবরাহ বাড়িয়েছে মার্কিন বাহিনী।  ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই তথ্য জানিয়েছেন আলোচনার সাথে পরিচিত একজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা। 

মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তা বলেছেন, এ সপ্তাহে শেষের দিকেই হামলা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে সেই সময় পরিবর্তনও হতে পারে।


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও জানান,‘ইরানে হামলা চালালে দেশটির পাল্টা প্রতিক্রিয়া কেমন হবে- তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলছে, তবে এ নিয়ে প্রশাসনের অভ্যন্তরে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।’

মূলত, ইরানে গত মাসের শেষ দিকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর বিক্ষোভকারীদের উপর নৃশংস দমন-পীড়নের অজুহাতে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় এক মাস ধরে ইরানে আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করছে। 

তবে ইরান সকার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসলে ট্রাম্প বলেন, ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের আর হত্যা করছে না। ফলে ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাদ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ওই সময় ইরানে হামলা না করতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় সৌদি আরব, কাতার এবং ওমান।   


বিজ্ঞাপন


অন্যদিকে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষকরা দাবি করেছেন, ওই সময় হামলা না চালানো ছিল সাময়িক, ট্রাম্প এখনো ইরানের সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা বাদ দেননি।

এদিকে চলতি মাসের শুরুর তুলনায় এখন ইরানের ওপর আক্রমণ চালানোর জন্য সামরিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের আরও কাছে পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ। এতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সোমবার মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগর থেকে যাত্রা করা বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে বিশাল নৌবহর ভারত মহাসাগরে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও সম্ভাব্য হামলার জন্য এটি এখনও প্রস্তুত নয়। 

বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং এফ/এ-১৮ জেট ফাইটার ছাড়াও ইএ-১৮এ গ্রোলার ইলেকট্রনিক-ওয়ারফেয়ার বিমান রয়েছে। এর সাথে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারও রয়েছে।

এছাড়া ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকাররা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন তৈরি করেছে। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিকল্প পথ খোলা থাকবে, কারণ উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যেই ইরানের ওপর হামলা চালানোর জন্য তাদের আকাশসীমা বা সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। 

এদিকে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান। এরপরই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দিয়েছে তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড এবং জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না বলে ঘোষণা দেয়।


সূত্র: মিডেল ইস্ট আই


এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর