ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে আটক করেছে, ঠিক একই ভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের আটক করা উচিৎ বলে হুমকি দিয়েছেন ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকতা।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ইরানের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য এবং ভাবাদর্শী হাসান রহিমপুর আজগাদি বলেছেন, ‘ইরানের বিক্ষোভের বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের উচিৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বন্দি করা, ঠিক যেমন তিনি মাদুরোর সাথে করেছিলেন।’
বিজ্ঞাপন
Senior Iranian official and ideologue Hassan Rahimpour Azghadi says Iran should capture US President Donald Trump, just like what he did to Maduro, in response to Washington's stance on the protests in Iran. pic.twitter.com/X96qQWT0qs
— Iran International English (@IranIntl_En) January 26, 2026
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, ‘ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যা করছে এর জন্য তাকে মূল্য দিতে হবে, এটি হতে পারে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় থাকাকালীন অথবা ক্ষমতা শেষ হওয়ার পর। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি ট্রাম্প একদিন ইরানে হাতে ধরা পড়বেনই।’
প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি মধ্যরাতে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি বিশাল সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটক করে মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ডেল্টা ফোর্স। হেলিকপ্টারে করে তাদের প্রাসাদ থেকে প্রথমে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল অবস্থারত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ইও জিমা’তে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে নিউইয়র্কে। পরে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন আদালতে তাদের হাজির করা হয়। বর্তমানে তিন কারাগারে রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের আরও কাছে পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ। এতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান।
মার্কিন রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর খবরের পর এক বিবৃতি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের কাছে মার্কিন রণতরী ও যুদ্ধজাহাজের আগমন তেহরানের প্রতিরক্ষা অবস্থান বা কূটনীতির প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা কখনো যুদ্ধকে স্বাগত জানাইনি, আবার কূটনীতি ও আলোচনার পথ থেকেও কখনো সরে আসিনি। এসব আমরা বাস্তবে দেখিয়েছি।’
ইরানের কাছে জনগণের সমর্থনে দেশ রক্ষার পূর্ণ ইচ্ছা ও সক্ষমতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো আক্রমণের “ব্যাপক ও অনুশোচনাপ্রসূত জবাব” দেওয়া হবে। ইরান তার ক্ষমতার ওপর আস্থা রাখে এবং অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে, বিশেষ করে জুনের (ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ) বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। এবারের জবাব আগের চেয়েও শক্তিশালী হবে।’
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
এমএইচআর

