যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। কারণ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ ওই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ পানিসীমায় মোতায়েন করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালাতে পারে। খবর দ্যা গার্ডিয়ানের।
বিজ্ঞাপন
ব্রিটিশ ওই গণমাধ্যমটি আরও বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী একাধিক ডেস্ট্রয়ারসহ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর এখনো চূড়ান্ত অবস্থানে না পৌঁছালেও, তারা ইতিমধ্যে ইরানের ওপর হামলা চালানোর কার্যকর পরিসরের মধ্যে রয়েছে।
তবে এটি মোটেও নিশ্চিত নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো হামলা ইরানে আবারও রাজপথে বিক্ষোভ উসকে দেবে। কারণ, ১৯৭৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরোধিতা করলেও অনেক ইরানি আবার বাইরের শক্তির চাপিয়ে দেয়া শাসন পরিবর্তনের বিরোধী।
আরও পড়ুন:
কূটনৈতিক অগ্রগতির কোনো ইঙ্গিত না থাকায় সোমবার ইরানের শেয়ারবাজারে একদিনে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পতন ঘটে। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি আঞ্চলিক শক্তি ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইরানের ওপর হামলার জন্য তাদের আকাশসীমা বা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।
বিজ্ঞাপন
তবে ভূমধ্যসাগরে বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপের উপস্থিতির কারণে হামলা চালাতে বহু তৃতীয় পক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হবে না। সপ্তাহান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘোষণা দেয়, তারা ওই অঞ্চলে একটি মহড়া চালাবে। যার উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধবিমান মোতায়েন ও দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখার সক্ষমতা প্রদর্শন করা।
সম্ভাব্য এই হামলার লক্ষ্য ইরানের ইতিমধ্যে ভেঙে পড়া পারমাণবিক কর্মসূচি নয়। বরং লক্ষ্য হবে ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং জীবনযাত্রার মানের অবনতিতে ক্ষুব্ধ জনগণকে আবার রাস্তায় নামতে প্ররোচিত করা।
সর্বশেষ সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, গত এক মাসেই ইরানে মুদ্রাস্ফীতি ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলার আগে ইরানের সামাজিক ঐক্য ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।
তার ভাষায়, দেশ জরুরি অবস্থার মধ্যে আছে এমনভাবে ইরানকে তুলে ধরার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আসলে একধরনের যুদ্ধই চালাচ্ছেন। শত্রুরা ঠিক এটিই চায়। দাঙ্গাকারীরা শহুরে একটি গোষ্ঠী, যাদের বৈশিষ্ট্য সন্ত্রাসীদের মতো। তারা যখন অস্ত্র সংগ্রহের জন্য সামরিক ও পুলিশি স্থাপনার দিকে ধেয়ে যায়, তখন বোঝা যায় তারা গৃহযুদ্ধ উসকে দিতে চায়। এবার যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল হলো প্রথমে জনসংহতি ভাঙা, তারপর সামরিক হামলা চালানো।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সমঝোতা নিয়ে যোগাযোগ করছেন এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
সম্প্রতি উইটকফ তার দাবির তালিকায় যুক্ত করেছেন, জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শকদের ফিরিয়ে আনা, ইরানের সব উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা।
বাঘাই আরও বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিটি নড়াচড়া সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাহিনী মোতায়েন ও হুমকি দেওয়া আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নীতির পরিপন্থী।
তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এই নীতিগুলো লঙ্ঘিত হলে সবার জন্যই নিরাপত্তাহীনতা নেমে আসবে। যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে আমরা সমন্বিত ও বেদনাদায়ক প্রতিক্রিয়া জানাবো।
ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি-এজেই ইরানকে আর আলোচনার টেবিলে না ফেরার আহ্বান জানান। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বিক্ষোভ চলাকালেই ইরানের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকেন ট্রাম্প।
কারণ, তার হাতে এমন কোনো নির্ণায়ক পরিকল্পনা ছিল না, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে। কিংবা ইরানি প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে ইসরায়েলকে কীভাবে রক্ষা করা হবে- তার বিস্তারিত যুদ্ধপরিকল্পনাও ছিল না।
অনেক ইরানি এ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করায় ট্রাম্পের প্রতি ক্ষুব্ধ। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের ভেতরেও মতভেদ রয়েছে- ৯ কোটির জনসংখ্যার একটি দেশে কার্যত শাসন পরিবর্তনের পথে যাবে কি না, তা নিয়ে।
-এমএমএস

