সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কেন?

ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এই আকস্মিক ঘটনা যেমন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনিজুয়েলার মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় রূপ নিয়েছে, তেমনি বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে এই শত্রুতার মূল ভিত্তি কোথায়?

ভেনিজুয়েলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের মূল কারণগুলো দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মানবাধিকার-সম্পর্কিত। এটি হুগো শাভেজের সময় থেকে শুরু হয়ে নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে আরও তীব্র হয়েছে। 


বিজ্ঞাপন


হুগো শাভেজ এবং ‘বলিভারিয়ান বিপ্লব’

‘কোল্ড ওয়ার’ বা স্নায়ু যুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা সম্পর্কে ফাটলের শুরু ১৯৯৯ সালে হুগো শাভেজের ক্ষমতায় পদার্পণের মধ্য দিয়ে। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা ভেনেজুয়েলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিপুল সমর্থনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে ‘একুশ শতকের সমাজতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার ডাক দেন, যা 'বলিভারিয়ান বিপ্লব' নামে পরিচিতি পায়।

রাজনৈতিক এবং নির্বাচনী বিতর্ক


বিজ্ঞাপন


২০২৪ সালের ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাদুরো বিজয়ী ঘোষিত হন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এটিকে জালিয়াতি বলে অভিহিত করেন। বিপরীতে মাদুরোরর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এদমুন্দো গনজালেজকে বিজয়ী মনে করা হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে অবৈধ শাসক বলে মনে করে এবং তার সরকারকে স্বীকৃতি দেয় না।

মাদক সন্ত্রাস ও অপরাধের অভিযোগ

মার্কিন প্রশাসন মাদুরোকে একজন ‘নারকো-টেররিস্ট’ (মাদক সন্ত্রাসী) হিসেবে অভিহিত করে আসছে। মার্কিন প্রশাসনের র্দীঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে ভেনেজুয়েলায় একটি মাদক সাম্রাজ্য চালান মাদুরো। সেখানে মাদক উৎপাদন করে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। এ কারণে মাদুরোর বিরুদ্ধে ২০২০ সালে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। এমনকি তাকে গ্রেফতার বা আটকে সহায়তা করলে ৫ কোটি ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল ওয়াশিংটন।

শনিবার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানিয়েছে, ২০২০ সালে গ্রেফতারি পরোয়ানা মেনেই মাদুরোকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালান, কোকেন আমদানি, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক ডিভাইস রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক ডিভাইস রাখার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, মাদুরো সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের জেলখানা ও মানসিক হাসপাতাল থেকে বন্দিদের মুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিচ্ছে, যা মার্কিন নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

তেল এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ

ভেনিজুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুতধারী দেশ। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে যে মাদুরোর সরকার তেলের আয় মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসে ব্যবহার করে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং সাম্প্রতিক মাসহুলোতে বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কার জব্দ করে।

অন্যদিকে ভেনিজুয়েলা সরকার অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের তেল সম্পদ দখল করতেই এই আগ্রাসন চালাচ্ছে। ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে আমেরিকা ভেনিজুয়েলার তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ ও জব্দ অভিযান শুরু করেছিল।

ভূ-রাজনীতি প্রভাব

ভেনিজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া, চীন এবং ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্রতা বজায় রেখে আসছিল। মার্কিন প্রশাসন মনে করে, মাদুরোর পতন এই অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব কমাতে সহায়ক হবে। 

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

মাদুরোর সরকারের বিরোধী দলের নেতা-কমীর ওপর দমন-পীড়ন, গ্রেফতার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এগুলোকে কারণ হিসেবে দেখিয়েও দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এমএইচআর

 

 

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর