বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকা

বিশ্বজুড়ে ঈদের আনন্দ, গাজায় রক্ত, ক্ষুধা ও আর্তনাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ মার্চ ২০২৫, ০৯:১৫ এএম

শেয়ার করুন:

loading/img

বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ঘরে ঘরে ঈদের আনন্দ, কিন্তু ফিলিস্তিনের গাজায় ঈদের কোনো উৎসব নেই। সেখানে আছে শুধু কান্না, ক্ষুধা আর বোমার ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রতিদিন নতুন করে প্রাণ হারাচ্ছে শত শত মানুষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) আদেশ থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। পবিত্র রমজান মাস ও ঈদ উপলক্ষে মুসলিম বিশ্ব যেখানে একত্রিত হয়ে আনন্দে মেতে উঠছে, সেখানে গাজার মানুষরা রোজা রেখে শুধু মৃত্যুর শঙ্কা ও ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করছে।

ইসরায়েলি বাহিনী গত কয়েক মাস ধরে গাজায় যা কিছু করেছে, তা এক শব্দে বলা যায়—নির্মম। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী— ১৮ মার্চ গাজায় হামাসের সঙ্গে প্রথম দফা যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইসরায়েল আবারও হামলা শুরু করে। তারপর থেকে প্রতিদিনই শত শত মানুষকে হত্যা করেছে, আহত করেছে হাজার হাজার মানুষকে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি) থেকে যুদ্ধাপরাধী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যে নির্দেশনা পেয়েছেন, তার পরও ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের আঘাতে প্রায় ৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৯৮৪ জন, যদিও গাজার মিডিয়া অফিসের হিসাব মতে, নিহতের সংখ্যা ৬১,৭০০ ছুঁয়েছে। এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে, কারণ ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু ফিলিস্তিনি আটকা পড়ে আছেন।


বিজ্ঞাপন


উদ্ভূত পরিস্থিতিতে, যখন বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা ঈদের আনন্দ উপভোগ করছে, গাজার মানুষরা রক্তক্ষয়ী হামলা ও ঘরছাড়া হওয়ার ভয়াবহতা সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছে। তারা খাবারের জন্য হাহাকার করছে, কিন্তু ইসরায়েলের অবরোধের কারণে খাবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করেছে—গাজার মানুষরা ভয়াবহ অনাহারে ভুগছে এবং পুষ্টিহীনতায় আক্রান্ত হচ্ছে। গাজার হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই, ওষুধ নেই, রক্তের সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে, আর আহতদের জীবন বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

গাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব বিবেক যেন নির্বিকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, টেলিভিশনে সারা বিশ্বের মানুষ চোখ রাখলেও তাদের মধ্যে কোনো হুঁশ ফেরানোর লক্ষণ নেই। শিশুদের হতাহত হওয়ার যে ছবি ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই নিশ্চুপ। কী কারণে এমন নির্লিপ্ততা? কেন কোনো আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী শক্তি গাজার উপর এই নির্মম আক্রমণ থামাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে না?

এদিকে, শিকাগো শহরে ফিলিস্তিনপন্থী সমর্থকদের একটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে তারা স্লোগান দিয়েছে, ‘বর্ণবাদ: দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য খারাপ, ফিলিস্তিনের জন্যও খারাপ।’ যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যে অভিবাসন নীতির মাধ্যমে এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বহু মানুষকে গ্রেফতার করতে পারে, সে আশঙ্কায় অনেকেই সড়কে না নামলেও কিছু মানুষ তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে। তাদের এই প্রতিবাদ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগে ছিল, যেখানে গাজায় অব্যাহত হামলা ও বর্বরতার নিন্দা জানানো হয়েছে।

এছাড়া, মিশিগান রাজ্যের কংগ্রেসওমেন রাশিদা তায়েবসহ অন্যান্য নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কাছে এক চিঠি দিয়েছেন, যাতে তারা মাহমুদ খলিল নামে এক ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীকে মুক্তি দেয়, যিনি কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় আটক হয়েছেন। এই পদক্ষেপ তাদের অধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি আক্রমণও অব্যাহত। ইসরায়েল ২০১৯ সালের পর থেকে কয়েকবার যুদ্ধবিরতি ভেঙে আক্রমণ শুরু করেছে, এবং এখন পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, কারণ অবরোধের কারণে চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছানো যাচ্ছে না। হাসপাতালে আহতদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা নেই, রক্তের প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বেড়ে গেছে, এবং মেডিক্যাল টিমরা প্রাণের জন্য লড়াই করছে। তবে, অব্যাহত হামলার কারণে চিকিৎসকদের পক্ষে আহতদের সঠিকভাবে চিকিৎসা প্রদান করা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এমনকি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর মিডল ইস্টার্ন স্টাডিজও ইসরায়েলের বর্বরতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, এবং এই কারণে তাদের একাডেমিক লিডারশিপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের আক্রমণের প্রতি তাদের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।

এইউ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর