মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ভারতের মণিপুরে আবারও ভয়াবহ সংঘাত, নিহত ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

ভারতের মণিপুরে আবারও ভয়াবহ সংঘাত, নিহত ১
ভারতের মণিপুর রাজ্যে শান্তির দাবিতে বিক্ষোভ (ফাইল ফটো)। ছবি: ইপিএ, বিবিসি

ভারতের মণিপুর রাজ্যে আবারও ভয়াবহ সংঘাতের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে সেখানে মেইতেই ও কুকিদের মধ্যে ফের তুমুল সংঘর্ষ হয়। এ সময় এক কুকি গ্রামরক্ষী মারা যান। এছাড়া একাধিক মেইতেই সম্প্রদায়ের লোক নিখোঁজ হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ‘শুক্রবার রাত ২টা নাগাদ বিষ্ণুপুর জেলার সীমানা পার করে মেইতেই সম্প্রদায়ের যোদ্ধারা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে জোউপি গ্রামে চড়াও হয়। এ সময় সতর্ক কুকি গ্রামরক্ষীরা রুখে দাঁড়ান। দু’পক্ষে গুলির লড়াইয়ে খুপমিংথাং নামে এক গ্রামরক্ষী নিহত হন। 

আরও পড়ুন: কেন ব্রিকস ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেননি মোদি?

কুকিদের বাধায় শেষ পর্যন্ত গ্রাম পোড়াতে না পেরেই পিছু হটে মেইতেইরা। কয়েকজন মেইতেই যোদ্ধা এ সময় নিখোঁজ হন বলে জানা গেছে। নিখোঁজ সঙ্গীদের খুঁজতে ফের আরাম্বাই টেঙ্গল ও মেইতেই লিপুনের বিরাট বাহিনী জড়ো হয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে মেইতেই কমান্ডোরা। কুকিদের পক্ষ থেকে চূড়াচাঁদপুর জেলায় জরুরি বন‌্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মণিপুর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের একটি ভাষণের ভিডিও প্রকাশ করে কুকিদের যৌথ মঞ্চ আইটিএলএফ জানায় বীরেন ভাষণে স্পষ্ট বলছেন, তিনি শুধুমাত্র মেইতেই স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন, লড়ছেন কুকি-জো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে। 

আইটিএলএফ বলে, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর মতো সাংবিধানিক পদে থাকা কারও দায়িত্ব রাজ্যের সকলকে সমানভাবে দেখভাল করা, রক্ষা করা। কিন্তু বীরেন সরাসরি একটি গোষ্ঠীকে রক্ষা ও অন্য গোষ্ঠীকে ধ্বংস করতে সচেষ্ট। এমন লোককে অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো উচিত।’’

আরও পড়ুন: ভারতে টানেলে আটক শ্রমিকদের উদ্ধারে ৩০ দিন লাগবে!

বীরেনকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, “আমি ১০ বছর আগেই জানতাম, এই সংঘর্ষ হবেই। তাই রাজ্য ও মেইতেইদের বাঁচাতেই আমি রাজনীতিতে নামি।’’ সংঘর্ষকে যুদ্ধের নাম দিয়ে বীরেন বলেন, ‘‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিৎকার করে নয়, ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে যুদ্ধে জিততে হবে।”

আইটিএলএফ বলে, ‘‘একজন মুখ্যমন্ত্রী সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষকে ‘যুদ্ধ’ বলে ব্যাখ্যা করছেন। নিজের রাজ্যবাসীর বিরুদ্ধে ঠান্ডা মাথায় যুদ্ধজয়ের কথা প্রকাশ্যে বলছেন। স্বাধীনতার পরে ভারতে এমন ঘটনা নজিরবিহীন! তাই পৃথক প্রশাসনই কুকি-জো সম্প্রদায়ের বাঁচার একমাত্র উপায়।’’

পাশাপাশি, মণিপুর সরকার তিন কুকি-জো গোষ্ঠীর এমপিকে তাদের সরকারি পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। সেখানে নাগা ও মেইতেই এমপিদের নিযুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিজেপির দুই মন্ত্রী-সহ সাত কুকি এমপি ও অন্য দলের তিন কুকি এমপি যৌথভাবে পৃথক কুকি প্রশাসনিক এলাকার দাবিতে সরব হয়েছেন।

সূত্র : এবিপি

এমইউ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর