রোজার মাসকে ডায়াবেটিস ও রমজান সচেতনতা মাস ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:৩৮ পিএম
রোজার মাসকে ডায়াবেটিস ও রমজান সচেতনতা মাস ঘোষণা

রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম। এটি মানুষকে সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে। আত্মসংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মশুদ্ধিতা, ধৈর্য ও তাকওয়া অর্জনের অন্যতম প্রধান উপায় রোজা। তবে রমজানে রোজা রাখার বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন ডায়াবেটিস রোগীরা। এই অবস্থায় রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আসন্ন রমজান মাসকে ডায়াবেটিস ও রমজান সচেতনতা মাস হিসেবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের অ্যান্ডোক্রাইনোলজিস্টদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল অ্যান্ডোক্রাইনোলোজিস্ট অ্যান্ড ডায়াবেটোলজিস্ট অব বাংলাদেশ (এসেডবি)।

শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে এই সচেতনতা মাসের পূর্ব প্রস্তুতির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

এতে অংশ নিয়ে আলোচকরা বলেন, রোজা মানুষকে সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে। আত্মসংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মশুদ্ধিতা, ধৈর্য ও তাকওয়া অর্জনের অন্যতম প্রধান উপায় রোজা। সাধারণের জন্য মেনে চলা সহজ হলেও ডায়াবেটিস রোগীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েন। রোজা রাখতে পারবেন কি-না তা নিয়ে অনেকে দুশ্চিন্তায় পড়েন। কারণ, রোজায় খাদ্যাভ্যাস ও খাওয়ার সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। আর সুশৃঙ্খল জীবন ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অপরিহার্য।

>> আরও পড়ুন: রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানের ফরজ রোজাকে সঠিকভাবে আদায়ের জন্য রোজার অন্তত ৩ মাস আগে থেকে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করেই ডায়াবেটিস রোগীদের রোজার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

এ দিন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের সচিব ড. মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। নিজ বক্তব্যে তিনি বলেন, ডায়াবেটিস রোগীদের কথা মাথায় রেখে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এসেডবি, তা প্রশংসার দাবিদার। এ সময় এসেডবির এই উদ্যোগ দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসূচি হাতে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

>> আরও পড়ুন: রমজানে পণ্য আমদানিতে বিশেষ কর সুবিধা চান ব্যবসায়ীরা

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রক শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন জানান, গবেষণায় দেখা গেছে- রোজার মাধ্যমে একজন মানুষের ইতিবাচক আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তন ঘটে। রোজার পাশাপাশি তারাবির নামাজ পড়লে বাড়তি ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই।

এ সময় এসেডবির এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

>> আরও পড়ুন: রমজানে কোরআন চর্চা যেন অটুট থাকে

এছাড়া অনুষ্ঠানে এসেডবির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, একটি গবেষণায় উঠে এসেছে ৮০ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখেন। তবে এদের ৫০ শতাংশেরও বেশি রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়েই রোজা রাখেন। যার ফলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই জন্য প্রয়োজন প্রস্তুতি আর সচেতনতা।

এই উদ্যোগে সাইন্টিফিক পার্টনার হিসেবে সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। এ দিন অনুষ্ঠানে এসেডবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এসিআই ডায়াবেটিস টিমের হেড অব মার্কেটিং নাজমুল হাসান মাহমুদ।

এমএইচ/আইএইচ