বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

বদলি আদেশ স্থগিত করিয়ে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ফিরলেন আওয়ামী চিকিৎসক মোরশেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৫ এএম

শেয়ার করুন:

বদলি আদেশ স্থগিত করিয়ে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ফিরলেন আওয়ামী চিকিৎসক মোরশেদ
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী চিকিৎসক মো. মোরশেদ আলম। - ফাইল ছবি

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) ডা. মো. মোরশেদ আলমকে নিয়ে ফের বিতর্ক দেখা দিয়েছে। গত ২২ জুলাই বগুড়ায় করা তার বদলি আদেশ রহস্যজনকভাবে স্থগিত করে পুনরায় তাকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিভিডি) পদায়ন করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহলের সঙ্গে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে এই পদায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, আওয়ামী শাসনামলে ডা. মোরশেদ আলম দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। স্বাচিপের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচি, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানববন্ধন এবং আওয়ামী লীগের শান্তি মিছিলে তার নিয়মিত উপস্থিতি ছিল। এসব ঘটনার বহু ছবি ও ভিডিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

05504fd4-61d1-4ccc-a836-49aa26afe7f4

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ডা. মোরশেদ আলম কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে কতিপয় প্রভাবশালী চিকিৎসক নেতার সঙ্গে সমঝোতা করে তিনি স্বপদে ফেরেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেও কৌশলগতভাবে ইনসিটু প্রমোশন বাগিয়ে নিয়ে জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে বহাল থাকেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় কিডনি হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ডা. মোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ সংস্কারের নামে আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় তিনি সমালোচিত হন।

গত ২২ জুলাই প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তাকে বগুড়ায় বদলি করা হয়েছিল। তবে সেই আদেশ কার্যকর হওয়ার আগেই অদৃশ্য রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাবে বদলি স্থগিত করা হয় এবং তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে পদায়ন করা হয়।

এদিকে বিগত সরকারের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক চিকিৎসকের এভাবে সুবিধাজনক স্থানে পদায়নে সাধারণ চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্পর্শকাতর এই খাতে 'বদলি বাণিজ্য' ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন চিকিৎসকরা।

জানতে চাইলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) এনআইসিভিডি (জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল), নিকডু (জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউট) এবং এনআইএমএইচ (জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট) শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল ঢাকা মেইলকে বলেন, ডা. মোরশেদ আলমের সঙ্গে ড্যাবের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং তিনি ড্যাবের সদস্যও নন।

33fd3202-8ee0-4ba7-a59e-b1f52c5fa3f4

তিনি বলেন, মোরশেদ আলম বিগত সরকারের আমলে নানা সুবিধা ভোগ করেছেন এবং ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণের ছবি এবং প্রমাণ রয়েছে। তিনি ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।

ডা. মোস্তফা আরও জানান, এসব কারণে তাকে এনআইসিভিডিতে যোগদান করতে দেওয়া হবে না এবং ড্যাব এই অবস্থানে অটল থাকবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. খবির উদ্দিন আহমেদ ঢাকা মেইলকে বলেন, তার বিষয়ে আমার জানার আগ্রহ নাই। তবে ইন্টেরিমের সময়ে তাকে পুনর্বাসন করেছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এটি জামায়াতপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন)।

b2f49f12-947d-488b-815b-10b348896dd3

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনআইসিভিডির পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘বিষয়টা পুরোপুরি জানি না।’

এসব বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও ডা. মোরশেদ আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

এসএইচ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর