বিদেশের অনুদান নির্ভর দেশ হিসেবে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
রোববার (১৪ জুন) সকালে রাজধানীর সিরডাপে স্বাস্থ্যখাতের বাজেট প্রতিক্রিয়ার ওপর আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও সুইডেন সুভেরিয়ে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে এই আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, অনেকেই বলে এটা জনতুষ্টির বাজেট, আমরা বলব এটা জন আকাঙ্ক্ষার বাজেট। বাস্তবায়ন নিয়ে নানা ধরনের কথা রয়েছে এবং বাস্তবায়ন করতে পারব কিনা? বাজেট বাস্তবায়ন করা আসলেই চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, গত তিন মাসে নানা জায়গায় গিয়েছি। হাসপাতালে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করেছি এবং জানার চেষ্টা করেছি সমস্যা কোথায়? আমরা মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই। স্বাস্থ্যখাতে কী কী সমস্যা আমরা সেটা চিহ্নিত করেছি, ৩০০ জন এমপিকে চিঠি দিয়েছি। তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা দায়িত্ব পালন করা শুরু করেছেন। এমপিদের সম্পৃক্ততায় স্থানীয় অবকাঠামো ও সেবার মান বাড়বে।
ড. এম এ মুহিত বলেন, দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের ভেতরে যেসব জ্ঞান রয়েছে, সেগুলোকে কাজে লাগানোর আগ্রহ আছে সরকারের। আমাদের দেশের ভেতরে রিসোর্স রয়েছে, হোক সেটা ফাইনানন্সিয়াল রিসোর্স। এখন আর আমাদের পরমুখাপেক্ষী থাকার অবস্থা নাই। আমাদের অনুদান নির্ভর দেশ হিসেবে থাকার প্রয়োজন নাই বলে মনে করি। আমাদের ইনটেলেকচুয়াল অ্যাবেলিটি রয়েছে, আমাদের ২০, ৩০, ৫০ বছরের হিস্টোরি রয়েছে, সফলতার গল্প আছে। তাদের গল্প শুনি এবং তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাই।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মানুষ বলেছে, হাসপাতালে গেলে যে সেবার আশায় যায়, তারা সেটা পায় না। তারা হাসপাতালে ঢুকতে দালাল, বাটপার বা বিভিন্ন কোম্পানির লোকদের খপ্পরে পড়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
ড. এম এ মুহিত বলেন, আরেকটা নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে, আউটসোর্সিং। কে যে হাসপাতালের স্টাফ বা কে যে আউটসোর্সিং স্টাফ সাধারণ মানুষ দূরের কথা, আমাদের পক্ষেও বোঝা মুশকিল। হাসপাতালে প্রবেশ করার পর থেকে মানুষের হেনস্থা শুরু হয়।
তিনি আরও বলেন, আপনি যেকোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যাবেন তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত, দেখবেন চিকিৎসক-নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা ক্লিনার অর্ধেক মানুষ নাই। ১০ থাকার কথা থাকলে পাবেন ৫ জন। ২০ জন থাকার কথা থাকলে পাবেন ১০ জন। সাধারণ মানুষ এটা দেখে আর বলে এখানে তো কিছু নাই, গেলে সেবা পাওয়া যায় না এবং কিছু নাই। এই অবস্থা থেকে আমরা উত্তরণ চাই।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষ আশা করে, ডাক্তার পাঁচটা ওষুধ দিলে দুইটা যেন বিনামূল্যে পায়, সেই ওষুধটা পাওয়া যায় না। চারটা টেস্টের মধ্যে দুইটা টেস্ট বিনামূল্যে মানুষ চায়।
সভায় নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রুমানা হক ও বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের সদস্য ফারুক আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এসএইচ/এফএ




