মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

দেড় মাসের ওষুধ আছে কমিউনিটি ক্লিনিকে, ঘাটতি মেটাতে নতুন কার্যাদেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

শেয়ার করুন:

দেড় মাসের ওষুধ আছে কমিউনিটি ক্লিনিকে, ঘাটতি মেটাতে নতুন কার্যাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশে বর্তমানে চালু থাকা ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধের কোনো সংকট নেই এবং এর কার্যক্রম পুরোদমে চলমান আছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। 

প্রতিটি ক্লিনিক থেকে নির্ধারিত ২২ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও তথ্য দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আওতাধীন ‘কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট’-এর পক্ষ থেকে ওষুধ বিতরণের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রম ফুলসুইংয়ে (পুরোদমে) চলমান আছে এবং কোথাও কোনো ওষুধের ঘাটতি নেই। যে সকল জায়গায় সাময়িক সংকট ছিল, সেসব জায়গাতে ইতোমধ্যে ওষুধ পাঠানো হয়ে গেছে।’

খুলনা অঞ্চলের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, খুলনা জেলার ৯টি উপজেলায় বর্তমানে ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। প্রতি কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য ১টি কার্টুন করে ওষুধ সরবরাহ করা হয় এবং সেই মোতাবেক তা বিতরণও করা হয়েছে। বর্তমানে ক্লিনিকে যে পরিমাণ ওষুধ পর্যাপ্ত আছে, তা দিয়ে আগামী দেড় মাস স্বাচ্ছন্দ্যে সংকুলান হবে।

জানা গেছে, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ দ্বারা পরিচালিত এই সংবিধিবদ্ধ সংস্থাটির জন্য চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় পণ্য ও সেবা খাতে ২১৬ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এর মধ্যে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর প্রথম কিস্তিতে ৪৫ কোটি টাকা এবং ১৮ নভেম্বর দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও ৪৫ কোটি টাকা ছাড় দেয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ওষুধ ক্রয় প্রস্তাব গত বছরের ১৫ জুলাই অনুমোদনের পর ২৯ জুলাই সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডকে (ইডিসিএল) কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে সে সময় ওষুধ সরবরাহ কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হওয়ায় তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক দুই কিস্তির অর্থ একত্র করে ৯০ কোটি টাকার ওষুধ ক্রয়ের উদ্যোগ নেন।

পরবর্তীতে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনার আওতায় দুটি পৃথক প্যাকেজ (জিআর-১ ও জিআর-২) অনুমোদন করা হয়। এর অধীনে প্রায় ৯০ কোটি টাকা করে ওষুধ ও প্রতিষেধক ক্রয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে কারিগরি বিনির্দেশ, দাপ্তরিক প্রাক্কলন, দরকষাকষি এবং ইডিসিএলের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করা হয়।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে (১৪ এপ্রিলের মধ্যে) সরবরাহ সম্পন্ন করার শর্তে ইডিসিএলকে ৮৯ কোটি ৯৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গত ১৫ এপ্রিল থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিলম্বে ওষুধ সরবরাহ শুরু করে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি উন্নত করতে সংশোধিত বাজেটের আওতায় নতুন করে জিআর-২ প্যাকেজের অধীনে ৭৫ কোটি ৯৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকার আরেকটি কার্যাদেশ গত বুধবার ইডিসিএলের অনুকূলে জারি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই নতুন কার্যাদেশের মাধ্যমে দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

বিইউ/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর