বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ইকরার জন্মদিনে আলভীর খোলাচিঠি, রাখলেন একগুচ্ছ প্রশ্ন 

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ইকরার জন্মদিনে আলভীর খোলাচিঠি, রাখলেন একগুচ্ছ প্রশ্ন 

গত ফেব্রুয়ারি মাসে নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরা। স্ত্রীর প্রয়াণের পর এটি ছিল তাঁর প্রথম জন্মদিন। স্ত্রীর জন্মদিনে সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন খোলাচিঠি প্রকাশ করেছেন অভিনেতা।

আলভী লেখেন, ‘শুভ জন্মদিন ইকরা। তুমি আবার প্রমাণ করে গেলে, একজন মৃত মানুষের মূল্য অনেকগুলো জীবিত মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। তোমার অনুপস্থিতি আমাকে ভাবায়। রিযিককেও হয়তো ভাবায়। তুমি থাকলে হয়তো এই সময়টা কেক কেটে আমরা তিনজন খুব আনন্দ করতাম। আজকে তোমার কাছে মাফ চাচ্ছি কিছু বিষয়ে, জন্মদিন উপলক্ষে পারলে মাফ করে দিও। তুমি নেই, আর আসবেও না, তবুও আমি অক্সিজেন নিচ্ছি, তবুও আমি দিব্যি ৩ বেলা খাচ্ছি, গোসল করছি, জীবিকার তাগিদে এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছি, গান শুনছি, মজার মুহূর্তে হাসছি, রিযিককে নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করছি, ফেসবুকে ছবি আপলোড দিচ্ছি, শুটিং করছি, জীবনে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’

‘সাধারণ মানুষের অভিযোগ, তুমি চলে যাওয়াতে আমার জীবন কেন থেমে যাচ্ছে না? কেন আমার মুখে এখনও গান আসে? কেন এখনও আমি ছবি আপলোড দেই? জীবিকা নির্বাহ করি? কেন এখনও আমি ধ্বংস হচ্ছি না? কেন জেলে পচে মরছি না? কেন রিযিকের সান্নিধ্যে আসলাম? তুমি আসবে না জেনেও কেন তোমার পথ চেয়ে বসে থাকছি না? কেনই বা আমি তোমার বিরহে ধ্বংস হয়ে নিঃস্বেস হয়ে আমাদের রিযিকের জীবনটাও ধ্বংস করছি না?’—তিনি যোগ করেন।’

অভিনেতা আরও লিখেছেন, ‘মাঝে মাঝে এমন কিছু মানুষকে তোমার জন্য আমার সঙ্গে যুদ্ধ করতে দেখি, নিজের চোখকে মানাতে পারি না। তুমি বেঁচে থাকতে এরা আসলে কোথায় ছিল? এদের স্বার্থ কী? তোমার স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার ঝাল আমার ওপর মেটানোর? কখনও তো দেখিনি আমাদের সংসারে এদের। তুমি জানো, তোমার চলে যাওয়ায় কত মানুষ জীবিকার পথ খুঁজে পেয়েছিল? তোমাকে আর তোমার ভালোবাসার সন্তানকে বেঁচে ডলারের মুখ দেখেছিল! এখনও দেখছে। আমি নিশ্চিত তুমি বেঁচে থাকলে এদের একহাত দেখে নিতে। তোমার সন্তানের প্রতি করুণা দেখানোর দায়ে এদের ধুয়ে দিতে।’

সবশেষে তিনি লেখেন, ‘নিজেকে, পরিবারকে, রিযিককে সামলাচ্ছি। তোমার আমানতকে একটা সুন্দর জীবন দেওয়ার চেষ্টা করছি। এজন্য পারলে মাফ করে দিও। নামাজের বিছানায় মোনাজাতে তুমি প্রথম সারিতেই থাকো। তুমি বেঁচে থাকবে আমার মধ্যে। আমার সন্তানের মা হয়ে। একশ একটা অভিমান তোমার প্রতি, তবুও কোনো ক্লেশ নেই। দেখা হবেই তোমার সঙ্গে। বাকী আড্ডা সেদিনের জন্য রেখে দিলাম। অভিমানটাও। যেখানেই থাকো, ভালো থাকো। আর আমাদের দেখে রাইখো, বিশেষ করে আমাদের রিযিককে।’

ইএইচ/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর