দশকের পর দশক ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের বড় পর্দা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার রজনীকান্ত। তবে তারকা খ্যাতির মোহ তাঁকে কখনও বদলাতে পারেনি। কোটি ভক্তের ভালোবাসা পেলেও তিনি নিজেকে একজন সাধারণ বাস কন্ডাক্টর বলেই মনে করেন। তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘জেলর ২’-এর প্রি-রিলিজ অনুষ্ঠানে নিজের অতীত জীবনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
চলচ্চিত্রে নাম লেখানোর আগে বেঙ্গালুরুতে বাসের কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করতেন রজনীকান্ত। ১৯৭৫ সালে কিংবদন্তি পরিচালক কে. বালচন্দ্রের ‘অপূর্ব রাগঙ্গল’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখার আগের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি অভিনয় অবশ্যই ভালোবাসি। তবে তার চেয়েও অনেক বেশি ভালোবেসেছিলাম বাস কন্ডাক্টরের চাকরিটা। কন্ডাক্টর হিসেবে কাটানো পাঁচটি বছর সত্যি দারুণ ছিল। আমি এখনও সেই দিনগুলোকে মিস করি।’

খ্যাতি ও সুপারস্টার ইমেজ প্রসঙ্গে রজনীকান্ত বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি আজও তারকা খ্যাতিকে নিজের সঙ্গে মেলাতে পারি না। সুযোগ পেলেই বেঙ্গালুরু ছুটে যাই। আমি যে বাসে কাজ করতাম, হঠাৎ করে সেই বাসটির সামনে পড়লে আমার বুকটা আনন্দে ভরে ওঠে। আর কন্ডাক্টরদের গায়ে জড়ানো ওই খাকি রঙের পোশাকটার দিকে তাকালে, ফেলে আসা দিনগুলোর কথা মনে করে অজান্তে চোখ ভিজে যায়। লাখ লাখ মানুষের দেওয়া সুপারস্টার তকমা আমি কখনও নিজের ভেতর ধারণ করতে পারিনি। যত বড় স্টারই হই না কেন, মন থেকে আমি আজও নিজেকে আগের মতো একজন সাধারণ বাস কন্ডাক্টর বলেই মনে করি।’
পঁচাত্তর বছর বয়সে এসেও সিনেমার প্রধান চরিত্রে কীভাবে নিয়মিত অভিনয় কর যাচ্ছি—অনেকে এই প্রশ্নটি করেন। তাঁদের কৌতূহলের জবাবে আমি একটাই কথা বলব, ‘দীর্ঘ পথচলা এবং সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব আমার প্রিয় তামিল ভাই-বোনদের। তাঁদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কারণে আমি আজ এখানে পৌঁছাতে পেরেছি। তাঁরা যখন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে আমার কাজের প্রশংসা করেন এবং আমার সিনেমা উপভোগ করেন, তখন আমার বুকটা গর্বে ভরে ওঠে। আমার কাছে ভক্ত-দর্শকেরা ঈশ্বরের সমতুল্য। সত্যি বলতে, এই মানুষগুলো আমার পাশে না থাকলে আমার কোনো অস্তিত্ব থাকত না; তাঁদের ভালোবাসার তুলনায় আমি অতি তুচ্ছ এক মানুষ।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থনের কারণে বড় বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আমার সঙ্গে কাজ করতে এগিয়ে আসে। পরিচালক নেলসন দিলীপকুমারের মতো মেধাবী নির্মাতারা তাঁর সঙ্গে সিনেমা তৈরি করেন। ভক্তদের ভালোবাসার ঋণ কীভাবে শোধ করবেন তা জানেন না উল্লেখ করে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের পায়ে পড়ে প্রণাম জানাচ্ছি।’
ইএইচ/




