আজ ১৩ সেপ্টেম্বর লালন সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গত বছর এই দিনে কিডনিজনিত কারণে না ফেরার দেশে পাড়ি জামান তিনি। অচিন পাখি হয়ে উড়ে গেছে ঠিকই কিন্তু রেখে গেছেন মন ভোলানো সুর। শুধু লালন সংগীত না, নজরুলসংগীত, লোকগীতি, আধুনিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রতিটি গান শ্রতাদের মুগ্ধ করেছে।
লালনের গানকে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে। ফরিদার মৃত্যুর পর ঢাকা মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গায়িকার স্বামী গাজী আবদুল হাকিম বলেছিলেন, ‘লালন ফকিরের গানকে একটা অঞ্চল থেকে বের করে তিনি নাগরিক সমাজে, উচ্চবিত্তের ড্রয়িং রুমে পৌঁছে দিয়েছেন। বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন। বাংলা ভাষাভাষীদের বাইরেও লালন ফকিরের কথা বিশ্বের সবাই বুঝতে পারছেন। সুরের জন্য ফরিদার যে ত্যাগ তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। তার প্রতিটি গান দেশের সুধী সমাজ থেকে শুরু করে বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী তা মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।’
ফরিদা পারভীন শুধু একজন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ছিলেন না। নিজের অর্থ দিয়ে এতিমখানার বাচ্চাদের দেখাশোনার পাশাপাশি করোনা মহামারির সময় টানা একবছর আসহায় মানুষদের মুখে খাবার তুলে দিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে গায়িকার স্বামী বলেছিলেন, ‘কোভিড মহামারির সময় আমরা দুইজন করোনা আক্রান্ত ছিলাম। করোনার পর উনি এক বছরের বেশি সময় ধরে লোকজন খাইয়েছেন। এখানে একটা এতিমখানা আছে। উনি এতিমখানার বাচ্চাদের খুব দেখাশোনা করতেন। গান গেয়ে যা ইনকাম করতেন, তার সিংহভাগ চলে যেত মানবসেবায়। অচিন পাখির বাচ্চাদের খাওয়াতেন, তাঁদের খুব আদর করতেন। এছাড়া লালনের আখড়া থেকে যারাই আসতেন, আম্মা বললে আর কোনো কথা নেই। তাঁদেরকে উনি সেভাবে দেখতেন। দুই হাত ভরে দিতেন। সম্রাজ্ঞী সম্রাজ্ঞীর মতন ছিলেন।’
গাজী আবদুল হাকিম জানান, লালন শাহ আর ফরিদা পারভীন একে অপরের পরিপূরক। লালন যদি বেঁচে থাকে, ফরিদা পারভীন বেঁচে থাকবেন। তিনি যদি না বাঁচেন তাহলে লালন বিকৃত হতে থাকবে।
ফারিদা চলে যাওয়ার দিনে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। তাঁকে স্মরণ করে সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
ইএইচ/




