কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে একটি ডোবা থেকে আরমান হোসেন (১৭) নামে এক অটোরিকশা চালকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় দেড় মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। নিখোঁজের পর তার অটোরিকশাটিও উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বিনয়ঘর এলাকার একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আরমান হোসেন পার্শ্ববর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার মক্রবপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৩টার দিকে বিনয়ঘর উত্তরপাড়া এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি গাছ কেটে পানিতে ভাসিয়ে নেওয়ার সময় ডোবার পানিতে একটি গলিত মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে তারা বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে মনোহরগঞ্জ থানা, নাঙ্গলকোট থানা ও নাথেরপেটুয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে মনোহরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহযোগিতায় সন্ধ্যায় ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মরদেহের পরনে থাকা শার্ট ও প্যান্ট দেখে পরিবারের সদস্যরা সেটি আরমান হোসেনের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ বলেন, ‘ডোবার পানিতে গলিত মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। মরদেহ উদ্ধারের পর পরনে থাকা শার্ট ও প্যান্ট দেখে নিহতের মা তাঁর ছেলেকে শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে মক্রবপুর গ্রামের অটোরিকশা চালক আরমান হোসেন নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তাঁর মা বাদী হয়ে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘নিখোঁজের কয়েক দিনপর নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের অভিযানে মনোহরগঞ্জ উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকার সেলিমের গ্যারেজ থেকে আরমানের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। শনিবার তাঁর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’
প্রতিনিধি/এএম




