শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

স্মরণে নায়করাজ

আমার খুব জ্বর ছিল, রাজ্জাক আঙ্কেল কোলে করে নামিয়েছিলেন:আঁখি আলমগীর

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৮ এএম

শেয়ার করুন:

আমার খুব জ্বর ছিল, রাজ্জাক আঙ্কেল কোলে করে নামিয়েছিলেন:আঁখি আলমগীর

আজ ২১ আগস্ট। বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের মহাতারকা ‘নায়করাজ’ রাজ্জাকের মৃত্যুবার্ষিকী। কিংবদন্তি অভিনেতাকে হারানোর ৯ বছর। তিনি নেই, কিন্তু তাঁর সঙ্গে কাটানো শৈশবের স্মৃতি  আজও বয়ে বেড়ান সংগীত শিল্পী আঁখি আলমগীরের। 

নায়ক আলমগীরের কন্যা হওয়ার সুবাদে নায়ক-নায়িকাদের মাঝেই বেড়ে ওঠা আঁখি আলমগীরের। ফলে সাধারণের চোখে তারকা হলেও আঁখির চোখে ছিলেন চাচা-ফুফুর মতো। তার কথায়, ‘আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই মহাতারকাদের মাঝে। ছোটবেলায় তাদের রাজ্জাক আঙ্কেল, শাবানা আন্টি, ববিতা আন্টি এরকম ভেবে বড় হয়েছি। ফলে ওনারা যে কত বড় তারকা সেটা বুঝতে সময় লেগেছে। বড় হয়ে উপলব্ধি করতে পেরেছি আমরা কাদের মাঝে বেড়ে উঠেছি।

নায়করাজকে নিয়ে স্মৃতিচরণ করে তিনি বলেন, ‘রাজ্জাক আঙ্কেল আমাকে অনেক আদর করতেন। খুব ছোটবেলায় আমরা এক ফ্যামিলি হলিডে ট্রিপে গিয়েছিলাম। আমাদের এবং রাজ্জাক আঙ্কেলের পরিবার মিলে। কক্সবাজার যাওয়ার পথে কুমিল্লার ময়নামতিতে একটি গেস্ট হাউজে উঠেছিলাম। ওখানে থাকাকালীন রাতে হঠাৎ খুব জ্বর আসে আমার। আমার মনে আছে সে সময় যেহেতু রাজ্জাক আঙ্কেল আমাকে কোলে করে সিঁড়ি দিয়ে নামিয়েছিলেন। এরকম ছোট ছোট বিষয়গুলো মনে পড়ে।’

নায়ক রাজ্জাকের জন্মদিন নিয়েও মধুর স্মৃতি আছে আলমগীরকন্যার। সংগীত শিল্পী বলেন, ‘২৩ জানুয়ারি রাজ্জাক আঙ্কেলের জন্মদিন। সাধারণত কারও জন্মদিন মনে থাকে না। কিন্তু ওনারটা মনে আছে। কারণ আমরা জানতাম ২৩ জানুয়ারি মানে বিশাল পার্টি হবে। আঙ্কেলের গুলশানের বাসায় ইন্ডাস্ট্রির এমন কোনো মানুষ নেই যে যাবে না। ওটা ছিল ফ্যামিলি পার্টি। সবাইকে পরিবারসহ দাওয়াত দেওয়া হতো। উল্লেখ করা থাকত বাচ্চাদেরও নিয়ে যেতে হবে। শুধু রাজ্জাক আঙ্কেলের বাসার পার্টিতে না। আমাদের বাসায়, শাবানা আন্টির বাসায় অর্থাৎ সব পার্টিতেই। ফলে আমাদের ছোটদের মধ্যেও সখ্যতা গড়ে উঠেছে। বয়সে তারতম্য থাকলেও সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। যেমন বাপ্পা ভাই, সম্রাটদের সঙ্গে আমার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। পার্টিগুলোতে ছোটদের গ্রুপের আলাদা আড্ডা চলত। মাঝে মাঝে রাজ্জাক আঙ্কেল এসে জিজ্ঞেস করতেন আমরা কেমন আছি। আমাকে বলতেন, মা কেমন আছিস তুই? এত আদর করতেন! ওগুলো ছিল খুবই সুন্দর স্মৃতি।’

আঁখি আলমগীর শোনান, ‘আমরা সে সময় হলে গিয়ে সিনেমা দেখতাম। আব্বুর সিনেমা মুক্তি পেলে শুক্রবারে আম্মুর সঙ্গে আমরা তিন ভাইবোন বাসার হেল্পিং হ্যান্ড, ড্রাইভারসহ যেতাম। রাজ্জাক আঙ্কেলের সিনেমা এলেও দেখতাম। আমাদের পরবারগুলোর মধ্যে এরকম আন্তরিকতা ছিল।’

সবশেষ নায়করাজের শেষ বিদায় বললেন, ‘আঙ্কেল যখন মারা যান তখন আমি দেশের বাইরে ছিলাম। তাই দেখতে পারিনি। তবে ওনার মৃত্যুতে এক ধরণের শুন্যতা বোধ করেছি। একজন অভিভাবকের অনুপস্থিতি বোধ করেছি।’

আরআর/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর