১৫ মাস লন্ডনে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা নিয়ে গেল সপ্তাহে দেশে ফিরেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের (নিসচা) প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চান। দেশে ফিরে আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর ১১তম মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।
বলেন, ‘৩১ বছর আগে ব্যক্তিগত জীবনের গভীর এক বেদনাকে মানুষের জীবনরক্ষার আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলাম। আজ এটি আর ইলিয়াস কাঞ্চনের আন্দোলন নয়, এটি দেশের মানুষের আন্দোলন।’
নিজের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন তিনি বলেন, ‘অসুস্থতার কারণে আগের মতো সক্রিয় থাকতে পারছি না। মহান আল্লাহর কাছে সুস্থতা কামনা করছি। আবার সুস্থ হয়ে সবার সঙ্গে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার শক্তি যেন আমি পাই। একই সঙ্গে দেশের মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।’

আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আপনাদের হাতে তুলে দিয়ে যাচ্ছি। আমি না থাকলেও আপনারা এই দাবিকে বাঁচিয়ে রাখবেন। বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন।’
নিরাপদ সড়ক চাই প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম এবং দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অংশ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মহাসমাবেশে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সড়ক ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথি, সংগঠনের নেতাকর্মী এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে পরবর্তীতে ২২ অক্টোবরকে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
গত বছরের প্রথম দিকে অভিনেতার শরীরে টিউমার ধরা পড়লেও পারিবারিক সিদ্ধান্তে গত ২৬ এপ্রিল ইলিয়াস কাঞ্চনকে লন্ডনে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে চিকিৎসা শুরু হয়। তিন মাসের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৫ আগস্ট লন্ডনের উইলিংটন হাসপাতালে প্রফেসর ডিমিট্রিয়াসের নেতৃত্বে তার ব্রেনে অস্ত্রোপচার করা হয়।
ইএইচ/




