জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি কে সবার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছিল তা নিয়ে সম্প্রতি শুরু হওয়া বিতর্ককে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সম্প্রতি এক পোস্টে তিনি জানান, রাজপথে হাজারো মানুষের প্রতিবাদে আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। কারও ঘোষণায় আন্দোলনের গতি পরিবর্তন হওয়ার সুযোগ ছিল না।
ফারুকীর ভাষ্য, ‘সত্যি বলতে, কে আগে এক দফা ঘোষণা করেছে এ নিয়ে কাড়াকাড়ি এখন হাস্যকর পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। আপনারা কি সত্যি মনে করেন, ওই সময়ে এটা আর কোনো ব্যাপার ছিল?’
তিনি যোগ করেন, “বিএনপির তখনকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত বছরের আগস্টের ১ তারিখ এবং জুলাইয়ের ১৮ তারিখের দিকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে এক দফার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেছিলেন। এমনকি সে সময়কার বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি ‘দফা এক, দাবি এক’ স্লোগানের পাশাপাশি দেশের মুক্তির বিষয়টিও স্পষ্ট করেছিলেন।”
সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা আরও লেখেন, ‘আসল কথা হলো, জুলাইয়ের সংগ্রামে সবাই এক দফা বুকে নিয়ে আন্দোলনে মেনেছিল। ডান-বাম, বাংলা মিডিয়াম-ইংলিশ মিডিয়াম-মাদ্রাসা, শ্রমিক-পেশাজীবী, নারী-পুরুষ সবার-ই মালিকানা আছে জুলাইয়ে।’
এক দফার ধারণাটি হুট করে ২৪ সালে এসে তৈরি হয়নি। বরং ২০১৩ সাল থেকে দেশের সকল বিরোধী রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। ফারুকী জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও তাঁর বহু জনসভায় অতীতে সরকারের পতনের দাবি স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করেছিলেন। দীর্ঘ এক যুগ ধরে জমে থাকা ক্ষোভে ২০২৪ সালে এসে ঐতিহাসিক বিপ্লবী রূপ ধারণ করে।
সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘ফলে তখন ২ তারিখে কারা এক দফা ঘোষণা করলো নাকি তিন তারিখে ঘোষণা হলো এটা দিয়ে আন্দোলনের ফল প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে হ্যাঁ, আন্দোলনের মূল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলামের মুখ থেকে ঘোষণাটি আসার একটা আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব অবশ্যই রয়েছে।’
ইএইচ/




