হলিউডের কালজয়ী সিনেমা ‘বেসিক ইন্সটিঙ্কট’ খ্যাত অভিনেত্রী শ্যারন স্টোনের জীবন সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে। দুই যুগেরও আগের কথা, অভিনেত্রীর শরীরে তখন ক্যানসারের আশঙ্কা। জীবন বাঁচাতে নিজের স্তন অপসারণের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল তাঁকে। জীবনের ভয়াবহ কঠিন সময়ে তাঁকে একাই লড়াই করতে হয়েছে, পাশে ছিলেন না তাঁর স্বামী। কেননা স্তন অপসারণে আপত্তি ছিল তাঁর। অপারেশনের কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন তিনি; যেন স্ত্রীর জীবনের চেয়েও তাঁর কাছে বড় হয়ে উঠেছিল অবয়বের সৌন্দর্য! স্তন ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শ্যারনের সঙ্গে হাসপাতালেই সম্পর্কের ইতি টানেন তাঁর স্বামী।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি ডেভিড বেগনাউডের ‘দ্য পারসন হু বিলিভড ইন মি’ পডকাস্টে অংশ নিয়ে ২০০১ সালে তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া অতীতের ঝড়ো দিনগুলোর কথা প্রকাশ করেছেন তিনি। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ধকল কাটিয়ে ওঠার পরপরই শ্যারন জানতে পারেন তাঁর স্তনে টিউমার বাসা বেঁধেছে। পডকাস্টে টিউমারের আকৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে শ্যারন বলেন, ‘টিউমারগুলোর মধ্যে একটি আমার পুরো বাম স্তনের চেয়েও আকারে বড় হয়ে গিয়েছিল।’

পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে চিকিৎসকেরা সে সময় শ্যারনকে উভয় স্তন কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। শ্যারন সেই মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, “চিকিৎসক সেদিন আমার বাড়িতে এসে বলেছিলেন, ‘দেখুন, আমাদের মনে হয় আপনার দুইটা স্তন অপসারণ করা উচিত। পরিস্থিতি খুবই খারাপ। টিউমার যখন এতটা ওপরে চলে আসে, তখন অস্ত্রোপচারের আগেই আমরা নিশ্চিত থাকি এগুলো আসলে ক্যানসার’।”
বিজ্ঞাপন
চিকিৎসকদের আশঙ্কার পরও শ্যারনের মনে বিশ্বাস ছিল তাঁর টিউমারগুলো ক্যানসার নয়। তবে কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে তিনি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন। শ্যারনের ভাষ্য, “চিকিৎসকের কথা শুনে বলেছিলাম, ‘আমি কোনো ধরনের ঝুঁকি পোহাতে রাজি নই।’ কিন্তু আমার স্বামী আমার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন। স্তন ফেলে দেওয়ার কথা শুনে আমার স্বামী বলে ওঠেন, ‘এসব অত্যন্ত হাস্যকর ও অর্থহীন।’ এই বলেই তিনি সোজা উঠে দাঁড়ালেন এবং ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান।”

পডকাস্টের সঞ্চালক ডেভিড বেগনাউড তখন অভিনেত্রীর কাছে জানতে চান, তাঁর স্বামী আসলে কোন বিষয়টির বিরোধিতা করেছিলেন? ক্যানসার হলে শ্যারনের জীবন চলে যেতে পারত—সেই আশঙ্কায় কি তিনি চিন্তিত ছিলেন? জবাবে শ্যারন বলেন, ‘না, না। তিনি মূলত স্তন অপসারণ করানোর সিদ্ধান্তের কারণে প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিলেন। পরিস্থিতি দেখে তখন চিকিৎসক আমার স্বামীকে বলেছিলেন, ‘আমার কাছে যদি ওর (শ্যারন) মতো আরও রোগী থাকত, তবে আজ অনেক নারীকে জীবিত রাখা সম্ভব হতো। আপনার এখন শান্ত হয়ে বসা উচিত।’ চিকিৎসকের পর আমার স্বামীকে পরিষ্কার জানিয়ে দিই— ‘সিদ্ধান্ত আমি নেব, আপনি নন’।”
শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছিলেন এই হলিউড অভিনেত্রী
হাসপাতালের ঘটনার পর শ্যারন বুঝতে পেরেছিলেন তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক আর জোড়া লাগবে না। অভিনেত্রীর কথায়, ‘ওটা ছিল আমাদের বিয়ের শেষ মুহূর্ত। ব্যস, ওখানেই সব শেষ। তিনি তখন থেকে আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। ওই ঘরের ভেতরে সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাঁর মনে হয়েছিল আমি বোকার মতো আচরণ করছি।’

পডকাস্টে শ্যারন সরাসরি তাঁর প্রাক্তনের নাম উল্লেখ করেননি। তবে অভিনেত্রীর জীবনবৃত্তান্ত ঘেঁটে জানা গেছে, তাঁর দ্বিতীয় স্বামীর নাম ফিল ব্রনস্টেইন, যিনি পেশায় একজন সাংবাদিক। ১৯৯৮ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছরের মাথায় অর্থাৎ ২০০০ সালের দিকে তাঁরা একটি পুত্রসন্তান দত্তক নেন। বিয়ের মাত্র ৬ বছরের মাথায় তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এর আগে ১৯৮৪ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চলচ্চিত্র প্রযোজক মাইকেল গ্রিনবার্গের সঙ্গে শ্যারনের প্রথম বিয়ে টিকেছিল। ফিল ব্রনস্টেইনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর শ্যারন স্টোন আর কখনো বিয়ে করেননি।
অন্তর্বাস হাতে 'হলিউড' পাহাড়ে অভিনেত্রী
সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, ভবিষ্যতে এমন কোনো জীবনসঙ্গী কি তিনি পাবেন, যিনি শ্যারনকে ঠিক তাঁর মতো করেই ভালোবাসবেন? জবাবে হলিউড তারকা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘অবশ্যই আমি পাব।’




