শিশু রামিসার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে সামাজিক মাধ্যম উত্তাল হলে নিজের ফেসবুক একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রীপারশা মাহজাবীন পূর্ণি। ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
ভিডিওটি ভাইরাল হয়। সামাজিক মাধ্যমে ফটোকার্ড আকারেও ছড়িয়ে পড়ে তার বক্তব্য। বিষয়টি চোখে পড়েছে কি না জানতে চাইলে ঢাকা মেইলকে পারশা বলেন, ‘দেখেছি। তবে ভাইরাল হওয়ার জন্য ভিডিওটি করিনি। জিনিসটা খারাপ লেগেছিল বলে করা।’
বিজ্ঞাপন
পারশার বক্তব্য নিয়ে করা ফটোকার্ডে অনেকে বাহবা দিলেও নেতিবাচক মন্তব্য করতেও ছাড়ছেন না কেউ কেউ। তবে সেসব পাত্তা দিচ্ছেন না ‘চলো ভুলে যাই’ খ্যাত গায়িকা। তার কথায়, ‘ইনবক্স দেখার সময় পাই না। তবে কমেন্ট বক্স দেখছি। যেটা নিয়ে কথা বলেছি সেটা বাদ দিয়ে সবাই আমার আইল্যাশ নিয়ে পড়েছে। জন্মদিন উপলক্ষে আইল্যাশ করা। তাছাড়া ভিডিওটি বানানোর পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু রামিসার ঘটনা ও ছবিগুলো দেখে এত খারাপ লাগছিল যে বমি পাচ্ছিল! তখন অনেক রাত। ওই রাতে ওভাবেই ভিডিও বানাতে বসি।’
আরও বলেন, ‘এতটা ইমোশনালও কখনও হইনি। মনে হচ্ছিল আমারও তো একটা ছোট ভাই আছে, কাজিন আছে, বোন আছে। ওদের কথা যখন চিন্তা করেছি তখন আরও বেশি আবেগ কাজ করেছে।’
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে সরব ছিলেন পারশা। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অবক্ষয়ের বিরুদ্ধেও আওয়াজ তোলেন; যা অনেকের কাছে ঝুঁকির। তবে তার কথায়, ‘অন্যদের কথা জানি না। তবে আমার তেমন পিছুটান নেই। হারানোর ভয় খুব কম। সবসময় সত্যের সাথে থাকব। সত্যের পথে থাকতেই জুলাইয়ে সরব ছিলাম।’
বিজ্ঞাপন
গায়িকা বলেন, ‘‘বাংলাদেশের ৮০ ভাগ মানুষ সেসময় জুলাইয়ের পক্ষে ছিল। আমিও তাদের দলে পড়ি। যদিও আমাকে নিয়ে বিভিন্ন কথা হয়। আমি নাকি ডিপ স্টেট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়েছি। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে ডিপ স্টেট বা অন্য কোথাও থেকে একটা পয়সা নিয়েছি। আর্থিকভাবে লাভবান হতে ‘চলো ভুলে যাই’ গেয়েছি তবে মিডিয়াই ছেড়ে দেব। মিথ্যা দিয়ে নিজের জীবন সাজাব এত হিপোক্রেট আমি নই।’’
জুলাই আন্দোলনে সরব থাকলেও নিজেকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করেন না পারশা। বলেন, ‘আমি যখন জুলাইয়ে সক্রিয় ছিলাম তখনও নিজেকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করিনি। কারণ আমি যোদ্ধা না। শিল্পীর জায়গা থেকে, নাগরিকের জায়গা থেকে যতটুকু দেশকে দেওয়ার দিয়েছি৷ আমার গানের লিরিকে কোনো আক্রমণাত্মক কথা কিংবা অনেক বেশি ভায়োলেন্স নেই। যা ঘটেছে সেগুলো তুলে ধরেছি। সেজন্য নিজেকে জুলাই যোদ্ধা তখনও দাবি করিনি এখনও করি না। ভবিষ্যতেও করব না।’
তবে পারশা মনে করেন জুলাই যোদ্ধা পরিচয় কাজে লাগিয়ে সুবিধা নিচ্ছে একটি অংশ। তার কথায়, ‘এখন জুলাইকে মানুষ যে পর্যায়ে নিয়ে গেছে তখন জুলাইটা এরকম ছিল না। অনেকেই জুলাই যোদ্ধা পরিচয় নিজেদের সুবিধার্থে ব্যবহার করছে। একটা অংশ যেভাবে পারছে সব জায়গায় এই পরিচয় দিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমার নিজের চোখে দেখা।’
উদাহরণও দিলেন। বললেন, ‘গত সেমিস্টারে আমাদের ক্লাসে একজন জুলাই যোদ্ধা ছিলেন। একদিন স্যার ক্লাস করাচ্ছিলেন। তিনি এসে বসলেন। তারপর চেয়ারের ওপর পাটা তুলে পুরো ক্লাস করলেন। আমি শুধু তাকিয়ে দেখলাম। একজন ৬০ বছর বয়সী শিক্ষক যিনি আমাদের বাবার বয়সী; এরকম সিনিয়র মানুষের সামনে পা তুলে বসে ক্লাস করল! ওই জুলাই যোদ্ধা আমি হতে চাই না।’
পেশাগত দিক থেকে কয়েকদিনের বিরতিতে ছিলেন পারশা। ফিরেছেন কাজে। জানালেন, একটি সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। বিস্তারিত বলা নিষেধ। জানানো হবে আনুষ্ঠানিকভাবে।
আরআর




