বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে সাহসের জ্বালানীর জোগান দিয়েছিল কণ্ঠশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণির গান। ‘চলো ভুলে যাই’ শিরোনামে মেধা শহীদদের নিয়ে দশ মিনিটে লেখা গানটি বিশ্বের আনাচ-কানাচে ছড়িয়ে পড়তেও লেগেছিল অল্প সময়। পারসার কথা ও সুরে লেগে থাকা হাহাকার অশ্রু ঝরিয়েছিল দেশবাসীর।
এদিকে শুধু সংগীতশিল্পী হিসেবে না, অভিনেত্রী হিসেবেও সুনাম রয়েছে পারশার। এবার তিনি দর্শকের ঘুম কেড়েছেন জাহিদ প্রীতমের ‘ঘুমপরী’ ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করে। এতে ঊষা চরিত্রে দেখা গেছে পারশাকে।
বিজ্ঞাপন
এ প্রসঙ্গে পারশা বলেন, ‘ঊষা চরিত্রটি একেবারে আমার বিপরীত। তার ড্রেসআপ, চোখে কাজল দেওয়া, বেণি করে থাকা—সবই আলাদা। প্রথমদিকে মানিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছিল, তবে একসময় নিজেকে ঊষাই মনে হচ্ছিল। এমনকি সেটেও আমাকে এ নামে ডাকা হতো। যেহেতু আমি অভিনয়ে নতুন, টেকনিক্যাল অনেক কিছু শুটিং সেটে গিয়ে শিখেছি। প্রত্যাশা কম রেখেছিলাম। ভেবে রেখেছিলাম, নিজের সেরাটা দেব, কিন্তু বেশি প্রত্যাশা রাখা যাবে না। যদি ভালো হয়, তাহলে মানুষ সেটা বলবে। এখন সেটাই হচ্ছে।’
গানের পাশাপাশি অভিনয় সমানতালে করতে চান পারশা। এরকম উল্লেখ করে বলেন, ‘৩ বছর বয়স থেকে গান শিখি ও করি। আর অভিনয়ে একদম নতুন। তাই গানের প্রতি ভালোবাসাটা বেশি। অভিনয়ের প্রতিও ভালোবাসা জন্মাচ্ছে। সামনে হয়তো আরও জন্মাবে। তবে গান হোক কিংবা অভিনয়—একটু বুঝেশুনে এগোতে চাই। নতুন হলেও আমাকে নিয়ে মানুষের একধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেটা ধরে রাখতে চাই।’
বিজ্ঞাপন
এদিকে সম্প্রতি পারশা যোগ দিয়েছিলেন ইউনেসকো সদর দপ্তরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ২৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে। সেখানে গেয়েছেন তিনি।
ইউনেসকো সদর দফতরে পারফর্মের সে অভিজ্ঞতা জানিয়ে পারশা বলেন, ‘দারুণ এক অভিজ্ঞতা যোগ হয়েছে আমার জীবনে। এত বড় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য গর্বের। একেবারে শেষ মুহূর্তে জানতে পারি, আমাকে সিলেক্ট করা হয়েছে। সেখানে আমি গেয়েছি টুনটুন বাউলের সঙ্গে। তাঁর সঙ্গে গাইতে পারা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’