দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার বিদেশের বক্স অফিসেও নতুন ইতিহাস লিখতে যাচ্ছে তানিম নূরের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সাফল্যের জয়রথ ছুটিয়ে সিনেমাটি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দাপট দেখাচ্ছে।
উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশের সিনেমাগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বকালের ২য় সর্বোচ্চ ওপেনিং করেছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এমনকি ইউএস টপ চার্টে ২০ নম্বরে উঠে এসেছে সিনেমাটি! এমন তথ্য জানিয়েছেন সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশক স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো-এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব।
বিজ্ঞাপন
'বনলতা এক্সপ্রেস'-এর যাত্রা শুরু, ট্রেন কোন গন্তব্যে গিয়ে থামবে?
তিনি বলেন,“গত ৩ দিনে কানাডা ও আমেরিকার বক্স অফিসে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ যা ঘটালো সেটাকে সুনামি বললেও সঠিক বলা হচ্ছে না মনে হয়। এটা অবিশ্বাস্য অন্যরকম কিছু।”

তিনি জানান, প্রথম বাংলাদেশি ছবি হিসেবে ডমেস্টিক (ইউএসএ +কানাডা) বক্স অফিস টপ চার্টের সেরা ২০ এ জায়গা করে নিয়েছে চলচ্চিত্রটি। ওপেনিং ৩ দিনে গ্রস ১৫৪,০০০ ডলার! এর আগে আমরা ‘হাওয়া’সিনেমা মুক্তির সময় প্রথম ৩ দিনে গ্রস করেছিল ১৫৯,০০০ ডলার! আর কোনো বাংলাদেশি চলচ্চিত্র উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে প্রথম ৩ দিনে ৬৫,০০০ ডলারও গ্রস করতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন
কেন 'বনলতা এক্সপ্রেস'-এ অভিনয়ের প্রস্তাব ফেরান বিপাশা হায়াত
তিনি আরও জানান, ৩ দিনের আয় দিয়েই কানাডা ও আমেরিকায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ইতোমধ্যেই সর্বকালের ৪র্থ সর্বোচ্চ আয়কারী বাংলাদেশি সিনেমা হয়ে গেছে! পেছনে পড়ে গেছে তুফান (১৫০,০০০ ডলার), প্রিয়তমা (১৩২,০০০ ডলার), দেবী (১২৫,০০০ ডলার)-এর লাইফটাইম কালেকশন!

তিনি বলেন,“গত বছর ‘উৎসব’ বানিয়ে এখানকার দর্শকদের মনে যে আস্থার সৃষ্টি করেছেন তানিম নূর ও তার দল, তাদের পরের ছবি বড় কিছু করবে এমন একটা বিশ্বাস ছিল। সে পরের ছবিতে তারা আবার সাথে নিলেন বাংলা বিনোদন সিনের সবচেয়ে বড় তারকা হুমায়ূন আহমেদকে। তো যেটা হল, পুষ্পা ২/ধুরন্ধর ২ যেমন পুষ্পার/ধুরন্ধরের চেয়ে বড় হিট হল, তানিম নূরদের ‘পরিবার ছাড়া দেখা নিষেধ ২’ (বনলতা এক্সপ্রেস) ও পরিবার ছাড়া দেখা নিষেধ (উৎসব) এর চেয়ে বড় হিট হয়ে গেল।”
ঈদের ছবির দ্বিতীয় সপ্তাহ, এগিয়ে 'বনলতা এক্সপ্রেস'
গত ৩ এপ্রিল কানাডা, আমেরিকা ও ইউকের ৫২টি সিনেমা হলে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মুক্তি পেয়েছে। সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উত্তর আমেরিকায় এমন সাফল্যে অভিভূত পরিচালক তানিম নূর। তিনি বলেন, ‘আমি উত্তর আমেরিকার দর্শকের সাড়ায় অভিভূত। সিনেমার সকল শিল্পী, কুশলীকে ধন্যবাদ জানাই। হুমায়ূন আহমেদ স্যারকে স্মরণ করছি। উনিই আসল ম্যাজিশিয়ান। সাথে আন্তর্জাতিক পরিবেশক স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোকে ধন্যবাদ জানাই সিনেমাটি দর্শকের কাছে পৌছে দেবার জন্য।’

ইউসিবি নিবেদিত চলচ্চিত্রটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে বুড়িগঙ্গা টকিজ ও হইচই স্টুডিওস। সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে ‘ডোপ’। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শরিফুল রাজ, জাকিয়া বারী মম, শ্যামল মাওলা, ইন্তেখাব দিনার। আজমেরি হক বাঁধন, চঞ্চল চৌধুরী ও মোশাররফ করিম।
ইএইচ/

