বলিউড তারকাদের চকমকে দামি গাড়ি আর বিলাসবহুল জীবন দেখে অনেকেই ভাবেন তাঁরা জন্ম থেকেই সোনার চামচ মুখে নিয়ে বড় হয়েছেন। সাফল্যের সিঁড়িটা তাঁদের জন্য আগে থেকেই সাজানো ছিল। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে গল্পটা এক হয় না। ক্যারিয়ারে সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক ধূসর অতীত। সম্প্রতি নিজের শৈশবের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান।
ভারতের জনপ্রিয় পরিচালক ডেভিড ধাওয়ানের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও বরুণের ছোটবেলা কেটেছে চরম অনিশ্চয়তা আর নিম্নমধ্যবিত্তের টানাপোড়েনে। এমনকি প্রতিদিনের খরচ বাঁচাতে তাঁকে অটোয় চড়ে স্কুলে যেতে হতো।

অভিনেতা বলেন, ‘শৈশবে বিলাসিতার প্রাচুর্য না থাকলেও, ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। কারণ, আমাদের পরিবার এখনকার মতো অতটা সচ্ছল ছিল না। আমরা একেবারে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার ছিলাম। কারণ, বাবার ক্যারিয়ার সেভাবে সফল হয়নি।’
ডেভিড ধাওয়ানের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে যখন একের পর এক ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ছিল, তখন সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো ধাওয়ান পরিবারকে। সংসারের ব্যয় কমানোর জন্য তখন অভিনেতাকে অটোয় চড়ে স্কুলে যেতে হতো। বরুণের ভাষায়, “খরচ কমানোর জন্য তখন আমাকে অটোয় চড়ে স্কুলে যেতে হতো। মা প্রায়ই বলতেন— ‘এই যে খাবারটা খাচ্ছ, সেটা বাবা অনেক পরিশ্রম করে আনছেন বলে পাচ্ছ।’ যখন বাবার কোনো সিনেমা চলত না, তখন বাড়িতে আলোচনা হতো যে এরপর কীভাবে চলবে কেউ জানে না, তাই খরচ কমাতে হবে।”

বরুণ আরও যোগ করেন, ‘আমাকে মেঝেতে শুতে দিন বা বিছানায়, তাতে কিছু যেত-আসত না। বাবা রাতদিন কাজ করতেন, একসঙ্গে দুটো ছবির কাজও সামলাতেন।’
১৯৮৪ সালে মহেশ ভাটের ‘সারাংশ’ ছবির সম্পাদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ডেভিড ধাওয়ান। পরে ১৯৮৯ সালে ‘তাকতওয়ার’ ছবির মাধ্যমে পরিচালনা শুরু করলেও সাফল্য পেতে বেশ সময় লাগে। ১৯৯৩ সালে ‘আঁখে’ ছবির মাধ্যমে তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন। এরপর গোবিন্দকে সঙ্গে নিয়ে ‘বিবি নং ১’, ‘কুলি নং ১’, ‘রাজাবাবু’ এবং ‘পার্টনার’-এর মতো প্রায় ৪৫টি ব্যবসা সফল ছবি উপহার দিয়ে নিজেকে বলিউডের অন্যতম সফল পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
ইএইচ/

