শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

জয়ার ইফতারে দই-চানাচুর, পুষ্টিবিদ জানালেন স্বাস্থ্যসম্মত না 

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

জয়ার ইফতারে দই-চানাচুর, খাদ্য বিশেষজ্ঞ জানালেন স্বাস্থ্যসম্মত না 

সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে ইফতারের মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। সেখানে তিনি জানান, বোনের বাসায় পরিবারের সবাই মিলে ইফতার করছেন তারা। বোন স্বাস্থ্য সচেতন বলে, ইফতারের খাবার তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে স্বাস্থ্যকর সব খাবার। জয়া জানান, বাড়িতে টক দইও পেতেছেন তিনি। সে দই অভিনেত্রী খান চানাচুর মিশিয়ে।

ওই ভিডিওতে টক দইয়ের সঙ্গে চানাচুর খেতে দেখা যায় জয়াকে। সামাজিক মাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয় বিষয়টি। এবার জানা যাক ইফতারে অভিনেত্রীর পছন্দের দই-চানাচুর কতটা স্বাস্থ্যসম্মত? 


বিজ্ঞাপন


রাজধানীর লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড বিডিএন পল্লবী ডায়াবেটিস সেন্টারের ডায়েটিশিয়ান ইসরাত জাহান ডরিন জানান, ইফতারে দই-চানাচুর মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত না।

ahsan_20251020_121431775

ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘ইফতারে টক দইয়ের সঙ্গে চানাচুর অনেকের প্রিয় কম্বিনেশন হলেও এটি স্বাস্থ্যসম্মত নয়, বিশেষ করে রোজা ভাঙার সময়। সারাদিন খালি থাকার পর পাকস্থলী সংবেদনশীল থাকে। তখন অতিরিক্ত লবণ, ভাজা তেল ও মসলা সমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, হজমে সমস্যা হয় এবং পেট ভার অনুভূত হয়।’


বিজ্ঞাপন


এ খাদ্য বিশেষজ্ঞের কথায়, ‘চানাচুরের মূল সমস্যা হলো এতে থাকা উচ্চমাত্রার লবণ (সোডিয়াম)। অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি জমায়, তৃষ্ণা বাড়ায় এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি করে। যারা কিডনি সমস্যা, হাইপারটেনশন বা ডিহাইড্রেশনের প্রবণতায় ভোগেন, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে ক্ষতিকর।’

তিনি বলেন, ‘চানাচুর সাধারণত ডিপ ফ্রাই করা হয় এবং অনেক সময় একই তেল বারবার ব্যবহৃত হয়। এতে ট্রান্স ফ্যাট ও অক্সিডাইজড ফ্যাট তৈরি হয়, যা কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকি বাড়ায়। ভাজাপোড়া অংশগুলো হজমে দীর্ঘ সময় নেয়, ফলে ইফতারের পর ঘুম আসা, পেট ভার এবং গ্যাস্ট্রিক সমস্যা হতে পারে।’

jh_20251020_121513715_(1)

ডায়েটিশিয়ান ইসরাত জাহান ডরিন বলেন, ‘অতিরিক্ত রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট ও কৃত্রিম ফ্লেভার/রং যুক্ত হওয়ার কারণে চানাচুর রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বৃদ্ধি করতে পারে এবং সংবেদনশীল ব্যক্তির ক্ষেত্রে এসিডিটি বা অম্বল বাড়ায়। খালি পেটে এটি গ্রহণ করলে রোজার পর শরীরের ক্লান্তি ও অস্বস্তি দ্রুত বেড়ে যায়।’

তার কথায়, ‘টক দই নিজে পুষ্টিকর হলেও, যখন এটি লবণ ও ফ্যাটসমৃদ্ধ চানাচুরের সঙ্গে খাওয়া হয়, তখন এর পুষ্টিগুণ কমে যায়। ইফতারের পর এটি হজমে সমস্যা, পেট ভার ও শরীরের অতিরিক্ত ক্লান্তি সৃষ্টি করতে পারে।’

ইফতারে দই-চানাচুর স্বাস্থ্যসম্মত খাবার না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অতএব, রোজা ভাঙার সময় টক দইয়ের সঙ্গে চানাচুরকে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। নিয়মিত খাওয়া হলে ওজন বৃদ্ধি, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর