বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলেছেন ইসলামি সংগীতশিল্পী মুছলেহ উদ্দিন আখন্দ

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

musleh
সংগীতশিল্পী মুছলেহ উদ্দিন আখন্দ। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামি সংগীতের ধারায় ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন মুছলেহ উদ্দিন আখন্দ। সম্প্রতি ‘ইয়া শাফী’ শিরোনামে নতুন সঙ্গীত প্রকাশের মাধ্যমে তিনি ইসলামি সঙ্গীতের প্রচলিত ধারায় নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছেন।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে মুছলেহের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল (muslah)-এ রিলিজ হয় তার নতুন নাশীদ ‘ইয়া শাফী’। রিলিজের পরপরই দর্শক-শ্রোতাদের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যায়। ইতোমধ্যে মাত্র এক দিনেই নেট দুনিয়ায় চার লক্ষাধিক দর্শক শ্রোতার সাড়া পেয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সংগীতটি নির্মিত হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নির্মাতা বদর আল হাসানির নির্দেশনায়। নির্মিত হয় মরক্কোর ওউয়ারজাজাত (Ouarzazate) শহরে। হলিউডের বড় সিনেমা কিংবা গেম অব থ্রোনসের মতো সিরিজের শুটিংয়ের জন্য যে লোকেশন জগদ্বিখ্যাত, সেখানে। এতে কাজটি পেয়েছে ভিন্নমাত্রার নান্দনিকতা ও আন্তর্জাতিক মানের শিল্পগুণ। ফলে সংগীতটি কেবল একটি সংগীতপ্রযোজনা নয়, বরং একটি পরিপূর্ণ শৈল্পিক উপস্থাপনায় রূপ নিয়েছে।

আরও পড়ুন

কালজয়ী নাশিদ ‘তালা আলবাদরু আলাইনা’

বাংলা ও আরবি মৌলিক ইসলামি সংগীতের পাশাপাশি এবার প্রথমবারের মতো উর্দু সংগীতে কণ্ঠ দিয়ে মুছলেহ উদ্দিন আখন্দ দেশের সীমানা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে বহুভাষিক ইসলামি সংগীতচর্চায় তিনি নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছেন।

Musleh1


বিজ্ঞাপন


এর আগে প্রকাশিত তার জনপ্রিয় কাজসমূহ ফিদাকা ক্বালবি, ওয়া রাফানা লাকা যিকরাক, হৃদয়ের গহীনে তুমি, রাহমান এবং মুসলিম ইতিহাস ও ঐতিহ্যভিত্তিক সংগীত ‘রক্তের পরিচয়’ ব্যতিক্রমী উপস্থাপনার কারণে ব্যাপক দর্শক-শ্রোতার গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ইউটিউব ও ফেসবুক বিশ্লেষণে দেখা যায় এসব কাজ ইতোমধ্যে কোটি দর্শক-শ্রোতার কাছে পৌঁছে ইসলামী সঙ্গীতাঙ্গনে তার শক্ত অবস্থানকে আরও সুস্পষ্ট করেছে।

‘ইয়া শাফী’ সংগীত নিয়ে মুছলেহ বলেন. ‘ইয়া শাফী’ আমার অন্যান্য সংগীতের মতো নয়। এটি আত্মার গভীর থেকে উঠে আসা এক নিঃশব্দ মিনতি। কণ্ঠে বাঁধা এক দোয়া যেখানে শব্দ নয় অনুভবই মুখ্য। এই প্রজেক্টে আমি এমন এক প্রশান্তি দিতে চেয়েছি যা শোনার সময় মানুষ নিজের কষ্ট ভুলে যাবে, ব্যথার ভার নামিয়ে রেখে আল্লাহর শিফার দিকে মন ফেরাবে ইনশাআল্লাহ।’

মরক্কোর অর্জাজাতে শুটিং প্রসঙ্গে মুছলেহ বলেন, ‘আমি ট্রপিকাল ন্যাচারে শুটিং করেছি। এটা আমার জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। যেখানে হলিউড গল্প বানায় সেখানে আমি করেছি নাশীদের নির্মাণ। কখনো বরফ, কখনো স্নো, কখনো রোদ, কখনো পাহাড় আবার কখনো মরুভূমিতে শুটিং। প্রতিটা লোকেশনই ছিল আলাদা অনুভূতি, আলাদা আবহ, আলাদা শিক্ষা।’

আরও পড়ুন

যেভাবে সৃষ্টি হলো ‘আল্লাহ নবীজির নাম’ গানটি

তিনি আরও বলেন, ‘আমার শিকড় বাংলাদেশের সঙ্গেই গভীরভাবে প্রোথিত। তবে একটি সংগীতের ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের জন্য শুধু কণ্ঠ বা সুর যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন হয় উপযুক্ত লোকেশন, দৃশ্যপট, ল্যান্ডস্কেপ ও নান্দনিক পরিবেশ। অনেক সময় এই ভিজ্যুয়াল ভাষা দেশের ভেতরে পাওয়া যায় না। মরক্কোর Ouarzazate এমন একটি জায়গা যেখানে নিয়মিত আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণকাজ হয় এবং Hollywood-এর বড় বড় প্রজেক্টের শুটিংও হয়। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার লক্ষ্যেই দেশের বাইরে গিয়ে এই লোকেশন নির্বাচন করেছি।’

Musleh2

বাংলাদেশি হয়েও বিভিন্ন ভাষায় সংগীত গাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মুছলেহ বলেন, ‘আমি বাংলাদেশি হয়েও আরবি ও উর্দু ভাষায় সংগীত করি একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে। তা হলো দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামি সংস্কৃতির অবস্থানকে আরও দৃঢ় করা। বিভিন্ন ভাষায় মৌলিক কাজের মাধ্যমে আমি চাই ইসলামি সংগীতকে একটি বৈশ্বিক পরিচয়ে উপস্থাপন করতে, যেখানে বাংলাদেশ শুধু একটি দেশ নয় বরং একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্বের নাম হয়ে উঠবে।’

ইউরোপে বড় হওয়া মুছলেহ’র সংগীতে এক অদ্ভুত সমন্বয় লক্ষ করা যায়। একদিকে যেমন ‘ফিদাকা ক্বালবি’ বা ‘ওয়া রাফানা লাকা যিকরাক’-এর মতো মৌলিক আরবি নাশিদ দিয়ে তিনি কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, অন্যদিকে ‘রক্তের পরিচয়’-এর মতো বাংলা গানে দেখিয়েছেন ইতিহাসের বীরত্ব।

আরও পড়ুন

‘ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ’ গানের পেছনের গল্প

গাজীপুরের লোকেশনে ২৫০ জন অভিনয়শিল্পী নিয়ে তুর্কি সিরিজের আদলে ‘রক্তের পরিচয়’ নির্মাণ করে তিনি দেশের ইসলামি সংগীত জগতে রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন। সমালোচকরা যখন বিদেশের লোকেশনে শুটিং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন মুছলেহ’র উত্তরটি খুব সহজ- ‘ভিজ্যুয়াল ল্যাঙ্গুয়েজের প্রয়োজনে অনেক সময় উপযুক্ত লোকেশন দেশে পাওয়া যায় না। আমার উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানের কাজ দিয়ে বিশ্বকে দেখানো যে একজন বাংলাদেশি শিল্পীও বিশ্বমানের আর্ট তৈরি করতে পারেন।’

মুছলেহ’র প্রতিটি প্রজেক্টের পেছনে থাকে একটি শক্তিশালী গল্প। তাঁর ‘রাহমান’ প্রজেক্টটি ছিল তাঁর নিজের জীবনেরই ছায়া। আয়া সোফিয়া মসজিদের সামনে চিত্রায়িত সেই গানে তিনি তুলে ধরেছেন এক যুবকের ভুল পথ থেকে স্রষ্টার করুণার দিকে ফেরার আকুতি।

জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর