ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে স্ত্রী হেমা মালিনীকে। যা অভিনেত্রীকে করে মানসিকভাবে বিদ্ধস্ত। স্বামীর মৃত্যুর দুই মাস পর আলাদা করে স্মরণ সভা ডেকে সেসবের জবাব দিলেন হেমা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে হেমা বলেন, ‘এটি এমন একটা সময় ছিল যখন আমরা একটা পরীক্ষার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এমন একটা ধাক্কা যেটা সহ্য করা কঠিন ছিল। এক মাস ধরে উনি ভালো বোধ করছিলেন না যার ফলে ওকে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করাই।’
বিজ্ঞাপন
এরপর বলেন, ‘প্রত্যেকবার উনি হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসতেন। আমরা ভেবেছিলাম এবারও তাই হবে। উনি আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানান। ওর জন্মদিনের জন্য আমরা প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিলাম। তার মধ্যেই হঠাৎ করে খবর এলো যে উনি আর নেই।’
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন তথ্য নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘অনেকে তখন বলছিলেন যে আমার চোখ ফুলে গেছে আমি খুব কান্নাকাটি করেছি। কিন্তু আমি বারবার এটুকুই বলতে চাই যে আমি ভেতর থেকে ভীষণ শক্তিশালী একজন মানুষ। নিজের আবেগকে ধরে রাখতে জানি। ২০ বছর আগে যখন আমার মা মারা যান, তখন আমি ভাবিনি যে আমার মাকে ছাড়া আমি বাঁচব, কিন্তু জীবন আমাদের কঠিন থাকার জন্য শিক্ষা দেন।’
হেমা বলেন, ‘জীবন কারও জন্য থেমে থাকে না। এখনো ওর পছন্দসই খাবার আমরা বাড়িতে তৈরি করি। যখনই এগুলো তৈরি করা হয় আমরা ওকে খুব মিস করি। এই ভাবেই আমরা ধীরে ধীরে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
গেল বছরের অক্টোবরে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় ধর্মেন্দ্রকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) নেয়া হয়। টানা ১৬ দিন চিকিৎসা শেষে ১২ নভেম্বর বাড়ি ফেরেন। সে সময় অভিনেতার পরিবার জানিয়েছিল তিনি মোটামুটি সুস্থ আছেন এবং এখন থেকে বাড়িতে তার চিকিৎসা চলবে। কিন্তু ২৪ নভেম্বর শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

