যে কয়জন অভিনয় শিল্পীর হাত ধরে ঢাকাই সিনেমা সামনে এগিয়েছে তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রবীর মিত্র এবং চিত্রনায়ক ফারুক। দুইজনই তাঁদের নিজের অবস্থান থেকে তুমুল জনপ্রিয়। অনবদ্য অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। অভিনয় ছাড়াও জনপ্রিয় দুই অভিনেতার মধ্যে এক অদ্ভুদ মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
প্রবীর মিত্র ও ফারুকের প্রথম সিনেমা ‘জলছবি’। এ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছিল দুই তারকা অভিনেতার। অন্যদিকে বছরের একই তারিখে জন্ম কিংবদন্তি দুই অভিনেতার। আজ ১৮ আগস্ট ফারুক হোসেন ও প্রবীর মিত্রর জন্মদিন।

১৯৭১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রায়ত অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের লেখা গল্প ‘জলছবি’ তে অভিনয়ের মাধ্যমে পর্দায় অভিষেক হয় এ দুই অভিনেতার। ৩৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের এ সিনেমায় ফারুকের বিপরীতে অভিনয় করেন মিষ্টি মেয়ে খ্যাত অভিনেত্রী কবরী।
১৯৪১ সালের এই দিনে চাঁদপুরের নতুনবাজার গুয়াখোলায় মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন প্রবীর মিত্র। তাঁর পৈতৃক নিবাস কেরানীগঞ্জের শাক্তায়। যদিও অভিনেতা বেড়ে উঠেন পুরান ঢাকায়। স্কুলজীবনে তিনি নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন। ‘লালকুটি’ থিয়েটার গ্রুপের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জীবন শুরু হয়।
দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় অভিনয় জীবনে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘তীর ভাঙা ঢেউ’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’-এর মতো জনপ্রিয় ছবি। ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় এ গুণী অভিনেতার মৃত্যু হয়।

এদিকে, ১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট গাজীপুরের কালীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন নায়ক ফারুক। পুরোনাম আকবর হোসেন পাঠান দুলু। এই অভিনেতার বেড়ে ওঠাও পুরান ঢাকায়। একাধারে তিনি ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা, অভিনেতা, প্রযোজক ও রাজনীতিবিদ। ‘সুজন সখী’, ‘নয়নমনি’, ‘সারেং বৌ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘মিয়া ভাই’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’সহ তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
বলে রাখা ভালো, ২০২৩ সালের ১৫ মে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নায়ক ফারুক।
ইএইচ/




