শীতের আগমনে দেশের বিভিন্ন জলাভূমিতে আসতে শুরু করে নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। প্রতিবছর শীত মৌসুমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ময়নাদ্বীপ ও আশপাশের জলাশয়ে দেখা মেলে এসব পাখির। তাদের আগমন নির্বিঘ্ন করতে দ্বীপের জলাশয় থেকে কচুরিপানা পরিষ্কারসহ আবাসস্থল উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত শীত মৌসুমে অতিথি পাখির বিচরণে মুখর ছিল ময়নাদ্বীপ ও আশপাশের জলাশয়। গ্রীষ্মের শুরুতে পাখিগুলো ফিরে যাওয়ার পর বর্ষা মৌসুমে জলাশয়গুলোতে ব্যাপকভাবে কচুরিপানা জন্মায়। শীত মৌসুম সামনে রেখে এখন সেগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাখিদের বসার উপযোগী ক্যানোপি তৈরির কাজও চলছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা এবং তাদের নির্বিঘ্ন বিচরণের পরিবেশ তৈরি করা।
প্রতিবছর শীত মৌসুমে অতিথি পাখির আগমন ঘিরে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় অন্য রকম পরিবেশ। পাখি দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পাখির কলকাকলি, জলাশয়ে তাদের বিচরণ এবং দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্যাম্পাসকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়। শিক্ষার্থীদের কাছেও ময়নাদ্বীপ অবসর কাটানো ও প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগের অন্যতম স্থান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিতম চক্রবর্তী বলেন, ‘শীতকালে বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি পাখি আসে। নোবিপ্রি সেগুলোর একটি। এটি আমাদের জন্য অবশ্যই আনন্দের। অতিথি পাখির আগমন আমাদের ক্যাম্পাসকে অন্য রকম সৌন্দর্য দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রকৃতির এমন সান্নিধ্য পাওয়া আমাদের জন্য আনন্দের। আমরা চাই, পাখিরা নিরাপদে থাকুক এবং প্রতিবছর আরও বেশি পাখি এখানে আসুক।’
আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে পরিযায়ী পাখি দিবসে পাখি অবমুক্ত

পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণে কমিটি
ময়নাদ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসের মেডিকেল সেন্টার থেকে স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের লেকের সৌন্দর্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিযায়ী পাখির বিচরণের উপযোগী অভয়ারণ্য তৈরি ও রক্ষায় গবেষণাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটিকে।
কমিটির আহ্বায়ক ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদা সুলতানা। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানজিনা আলম এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মেহেদী হাসান ও নিশাত ফারাবি।
আরও পড়ুন: আত্রাই নদীতে পরিযায়ী পাখির জলকেলি
ময়নাদ্বীপ পরিষ্কারের বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদা সুলতানা বলেন, ‘অতিথি পাখির নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে আমরা কচুরিপানা পরিষ্কার করছি। পাখির বসার জন্য ক্যানোপিও প্রস্তুত করা হচ্ছে। ময়নাদ্বীপকে পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।’
এ বছর পরিযায়ী পাখির প্রজাতির সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। সকালে ময়নাদ্বীপ এলাকায় কিছু পাখিকে উড়তে দেখা যায়। এ বছর এখনো পাখিগুলোর প্রজাতি শনাক্ত করা ও সংখ্যা গণনা করা সম্ভব হয়নি। ময়নাদ্বীপ পুরোপুরি প্রস্তুত হলে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানানো যাবে।’
তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর পাখির সংখ্যা বাড়ছে। এ বছর গত বছরের তুলনায় বেশি পাখি আসবে বলে তারা আশা করছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অতিথি পাখির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে আবাসস্থল পরিষ্কারের পাশাপাশি শিকার প্রতিরোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। নিয়মিত পরিচর্যা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ময়নাদ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত গুরুত্ব আরও বাড়বে।




