- এক টাকার জ্বালানিতে সারাদিনের রান্না
- পলিথিন বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন
- বিজ্ঞানচর্চায় সৃজনশীলতাই প্রধান শক্তি
- সরকারি সহায়তায় বিস্তৃত হতে পারে বিজ্ঞানচর্চা
- সরকারি সহায়তায় অর্থের অপব্যবহারের ঝুঁকি
মাত্র আট বছর বয়সেই ২০০ টাকার উপকরণ দিয়ে চুলার একটি মডেল তৈরি করে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তার দাবি, মাত্র এক টাকার পেট্রোল দিয়ে দিনের রান্না করা সম্ভব। আব্দুল্লাহর মতোই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে নানা স্বপ্ন দেখছে দেশের অনেক শিশু। কেউ তৈরি করছে সৌরবিদ্যুতের মডেল, কেউ ভাবছে কৃষিকাজে শ্রম কমানোর উপায়, আবার কেউ স্বাস্থ্যকর খাবার ও জাঙ্ক ফুডের পার্থক্য তুলে ধরছে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানমেলায় শিশুদের এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষার নতুন সম্ভাবনা সামনে আনছে। এসব প্রকল্পের কোনোটি প্রাথমিক ধারণা, কোনোটি পরীক্ষামূলক মডেল, আবার কোনোটি বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা। সব প্রকল্পের কার্যকারিতা এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা হয়নি। তবে শিশুদের সমস্যা চিহ্নিত করা, নিজেরা সমাধানের পথ খোঁজা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার শেখার আগ্রহ ভবিষ্যতের বিজ্ঞানচর্চার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশে কৃষি, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় সমস্যার সমাধান খুঁজতে সক্ষম নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা জরুরি। শিশুদের অংশগ্রহণ সেই সক্ষমতা তৈরির প্রাথমিক ক্ষেত্র হতে পারে। তবে বিজ্ঞানমেলায় একটি প্রকল্প প্রদর্শনের মধ্যেই বিজ্ঞানচর্চা সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শিক্ষার্থীদের ধারণাকে পরীক্ষা, গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগের পর্যায়ে নেওয়ার সুযোগও তৈরি করতে হবে।
বগুড়া শহরের নিশিন্দারা শৈলারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বয়স মাত্র আট বছর। সে শহরের পি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মোহাম্মদ এনামুল হক গোবিন্দগঞ্জ কামিল মাদরাসার রসায়ন বিভাগের শিক্ষক। সম্প্রতি নিজের বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানমেলায় প্রায় অর্ধশত প্রকল্পের মধ্যে আব্দুল্লাহর তৈরি চুলার মডেলটি দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বিজ্ঞান নিয়ে ছোটবেলা থেকেই আগ্রহ রয়েছে আব্দুল্লাহর। পড়াশোনায় ভালো ফল করার পাশাপাশি আগেও বিজ্ঞানমেলায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পেয়েছে। ভবিষ্যতে পারমাণবিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে চায় এই ক্ষুদে শিক্ষার্থী।
আব্দুল্লাহ তার প্রকল্পের নাম দেয় ‘এক টাকার পেট্রোল দিয়ে এক দিনের রান্না’। তার দাবি, মাত্র ২০০ টাকার উপকরণ দিয়ে মডেলটি তৈরি করা যায়। এতে প্লাস্টিকের বোতল, পেট্রোল, পানি, টিনের কৌটা ও বায়ু পাম্প ব্যবহার করেছে। তার ভাষ্যমতে, পেট্রোল ও পানির সাহায্যে বুদবুদের মাধ্যমে গ্যাস তৈরি করে সেই গ্যাস চুলায় ব্যবহার করার ধারণা নিয়ে কাজ করেছে।
আরও পড়ুন
সহজলভ্য ড্যান্ডিতে সর্বনাশ পথশিশুদের
উদ্ভাবন সম্পর্কে আব্দুল্লাহর ভাষ্য, ‘আমার প্রজেক্টের নাম এক টাকার পেট্রোল দিয়ে এক দিনের রান্না। মাত্র ২০০ টাকার উপকরণ দিয়ে এটি তৈরি করা যায়। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে আমরা এই প্রজেক্ট তৈরি করেছি।’
তার বাবা ও শিক্ষকরা তাকে বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহ দিচ্ছেন। বাবা এনামুল হক ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমি চাই, আমার ছেলে বড় হয়ে সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ মানুষ হোক এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করুক।’
আব্দুল্লাহর শিক্ষকরা জানান, সে শুধু বিজ্ঞান প্রকল্প তৈরি নয়, পড়াশোনা ও অন্যান্য কাজেও আগ্রহী। বিজ্ঞানমেলায় প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগতে পারে এমন কিছু তৈরির চেষ্টা করেছে সে।
স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ থেকে স্বয়ংক্রিয় কৃষি
টেবিলের নিচে এক পাশে রাখা ফার্মিং রোভার। ওপরে সাজানো জলযান ও ড্রোনের মডেল। কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যবহার উপযোগী এসব প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে রয়েছেন দুই শিক্ষক। সম্প্রতি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এ নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরে দলটি।
দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফার্মিং রোভারের মাধ্যমে গাছের আক্রান্ত অংশ শনাক্ত করার পাশাপাশি তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। কোনো আক্রান্ত অংশ রক্ষা করা সম্ভব না হলে লেজারের সাহায্যে নির্দিষ্ট অংশ কেটে ফেলার ধারণা রয়েছে, যাতে পুরো গাছ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
দলের সদস্য অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আমজাদ হোসেন সাদিক। তার সঙ্গে রয়েছে দশম শ্রেণির আরও দুই শিক্ষার্থী। আমজাদ হোসেন জানায়, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি ও মৎস্য খাতের সঙ্গে যুক্ত। এসব খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং কাজ সহজ করার চিন্তা থেকেই তিনটি প্রযুক্তি নিয়ে তাদের পরিকল্পনা।
তাদের পরিকল্পনায় ফার্মিং রোভার জমি ও ফসলের অবস্থা বিশ্লেষণ করবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরার সাহায্যে গাছের রোগাক্রান্ত অংশ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পরিচর্যার পরামর্শ দেবে। জমি ও ফসলের অবস্থা বিশ্লেষণের তথ্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানানো হবে। অন্যদিকে, স্বয়ংক্রিয় জলযান মাছের চাষের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করবে। পানিতে অক্সিজেনসহ বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি ও মৎস্য খাতের বিভিন্ন সহায়ক কাজের জন্য ব্যবহার করা হবে ড্রোন।
মহাকাশবিজ্ঞানে রকেট উদ্ভাবন
মহাকাশবিজ্ঞানে আগ্রহ তৈরিতে রকেট প্রকল্প নিয়ে আসে ঢাকার সরকারি বিজ্ঞান কলেজের তিন শিক্ষার্থী। দলের সদস্য রিফাত আহমেদ জানান, রকেট নতুন কোনো প্রযুক্তি নয়। তাদের লক্ষ্য, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহ তৈরি করা, যাতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে।
শুধু মহাকাশবিজ্ঞান নয়, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তায় উঠে এসেছে স্মার্ট সিটি, বাক্প্রতিবন্ধী মানুষের অভিব্যক্তি প্রকাশে সহায়ক প্রযুক্তি এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ধারণাও।
দলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মঈন উদ্দিন ঢাকা মেইলকে বলেন, বাজারে প্রচলিত অনেক রোভার রোগ দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। তাদের উদ্ভাবনী ধারণার লক্ষ্য হলো রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিকারের ব্যবস্থা করা। এর মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং কৃষিকাজে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।
পরিবেশ ও কৃষির উদ্ভাবন
সম্প্রতি নেত্রকোনায় জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বিজ্ঞানমেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করেছে। জেলা শহরের দত্ত উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলায় পরিবেশদূষণ, জ্বালানি সংকট, প্রতিবন্ধী মানুষের সহায়তা ও কৃষির মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছিল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের যোগাযোগে সহায়তার জন্য সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ সফটওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে গাছের রোগ শনাক্ত করার ধারণা এবং পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে জ্বালানি উৎপাদনের মডেল। বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও কাজ করেছে শিক্ষার্থীদের একটি দল।
মেলার প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি) মুনমুন জাহান লিজা। তারা শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
নেত্রকোনার মেলায় প্রতিবন্ধী মানুষের চলাচলে সহায়তার জন্য সেন্সরযুক্ত চশমার মডেলও উপস্থাপন করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চশমায় থাকা অতিস্বনক সেন্সর সামনে কোনো বাধা শনাক্ত করলে শব্দের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করবে। এর ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের চলাচলে সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছিল স্বয়ংক্রিয় সেচব্যবস্থা, পশুপাখি থেকে ফসল রক্ষার প্রযুক্তি, সৌরবিদ্যুৎ, স্মার্ট উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিকল্প শক্তির ধারণা। স্মার্ট উপস্থিতি ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র স্ক্যান করে উপস্থিতি নথিভুক্ত করা এবং অভিভাবকদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা দেখানো হয়েছে।
মাদরাসায় বিজ্ঞানচর্চার নতুন উদ্যোগ
ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষার সমন্বয়ের উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে। গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মাদরাসার বার্ষিক বিজ্ঞানমেলায় প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা রোবটবিদ্যা, সৌরজগৎ, পানি বিশুদ্ধকরণ ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১০টি প্রকল্প উপস্থাপন করেছে।
অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের কেউ দেখিয়েছে আগ্নেয়গিরির মডেল, কেউ সবজি সংরক্ষণের ধারণা, আবার কেউ পানি পরিশোধনের বিভিন্ন ধাপ ব্যাখ্যা করেছে। মেলায় অভিভাবক, শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতি ছিল। তারা শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও নিজেদের প্রকল্প ব্যাখ্যা করার আগ্রহের প্রশংসা করেন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মইনুদ্দিন সরকার মাদানীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তানজিমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুল্লাহ মোহাম্মদ ইকবাল।
এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিজ্ঞানশিক্ষাকে বিভিন্ন শিক্ষাধারার শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রকল্পের সংখ্যা বা প্রদর্শনীর আয়োজন দিয়ে বিজ্ঞানশিক্ষার মান নির্ধারণ করা যায় না। শিক্ষার্থীরা কতটা বুঝে কাজ করছে, শিক্ষকরা কতটা হাতে-কলমে শেখাচ্ছেন এবং পরবর্তী সময়ে প্রকল্প নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে কি না, সেসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ ও রান্নার ধারণা
গত ৩ অক্টোবর সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সৌরচুলা ব্যবহার এবং পরিবেশদূষণ কমানোর বিষয়ে প্রকল্প উপস্থাপন করেছে ইবনে হাইসাম বিজ্ঞান মাদরাসার শিক্ষার্থী বুশারা। তার মডেলে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিফলক ব্যবহার করে সূর্যের আলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে কেন্দ্রীভূত করে রান্নার জন্য তাপ তৈরির ধারণাও তুলে ধরেছে সে।
বুশারা বলে, সূর্যের আলো ব্যবহার করে জ্বালানি পোড়ানো ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। সৌর প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি ব্যবহার করা সম্ভব। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা গেলে রাতে বা সূর্যালোক না থাকলেও তা কাজে লাগানো যায়।
সৌরবিদ্যুৎ ও সৌরচুলার ব্যবহার জ্বালানি সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সৌর প্যানেলের উৎপাদনক্ষমতা, ব্যাটারির খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং আবহাওয়ার প্রভাব বিবেচনায় নিতে হয়। সৌরচুলার ক্ষেত্রেও রান্নার সময় ও তাপমাত্রা সূর্যালোকের তীব্রতা এবং প্রতিফলকের নকশার ওপর নির্ভর করে।
টেকসই প্রযুক্তিতে ভবিষ্যৎ
সিরাজগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিজ্ঞানমেলায় নানা বয়সী দর্শনার্থীর ভিড়। এক স্টলে সৌরবিদ্যুৎ, নিরাপদ পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে কথা বলছিল পাঁচ বছরের শিশু আব্দুল্লাহ। ছোট ছোট প্লে-কার্ড দেখিয়ে দর্শনার্থীদের নিজের প্রকল্পের ধারণা বোঝাচ্ছিল সে। বয়সে ছোট হলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে তার আগ্রহ ছিল স্পষ্ট।
আব্দুল্লাহর প্রকল্পের নাম ‘প্রকৃতি ও টেকসই প্রযুক্তিতে আলোকিত ভবিষ্যৎ’। বাবা-মায়ের সহযোগিতায় তৈরি করা স্টলে সে বিভিন্ন প্লে-কার্ড সাজিয়ে রেখেছে। কোনোটিতে সৌরবিদ্যুৎ, কোনোটিতে নিরাপদ পানি ও পুষ্টিকর খাবার, আবার কোনোটিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি বিষয় সহজভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছিল সে। আব্দুল্লাহ ইবনে হাইসাম বিজ্ঞান মাদরাসার প্লে-শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা আব্দুস সাত্তার এবং মা জান্নাতুন নাইম।
প্রকল্পে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপদ পানি ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এবং সৌরবিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাসের মতো নবায়নযোগ্য শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই ও স্বনির্ভর পৃথিবী গড়ার ধারণাও উপস্থাপন করেছে সে।
কখনো কোনো দর্শনার্থী প্রশ্ন করছে, আবার কখনো সামনে থাকা কার্ড দেখিয়ে নিজেই বিষয়টি বুঝিয়ে দিচ্ছিল আব্দুল্লাহ। বয়সে ছোট হলেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্নের কথা জানাতে দ্বিধা করেনি সে।
আব্দুল্লাহ বলে, ‘আমি দেশের জন্য কাজ করতে চাই। দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। সত্যিকারের ভালো মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’
আব্দুল্লাহ একা নয়। তার মতো আরও অনেক খুদে শিক্ষার্থী নিজেদের ভাবনা ও স্বপ্ন নিয়ে হাজির হয়েছিল এই বিজ্ঞানমেলায়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধান খুঁজে বের করার সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পথও উন্মুক্ত হবে।
সরকারের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের প্রশ্ন
শিশুদের বিজ্ঞানচর্চা বাড়াতে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরির কথা বলছে সরকার। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা এবং খেলাভিত্তিক শেখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকে বৈজ্ঞানিক চিন্তা গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলাভিত্তিক শিক্ষার পরীক্ষাগার ও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিতের পরীক্ষাগার চালুর সম্ভাবনাও সরকার বিবেচনা করছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিশুদের পাঠ্যবইয়ের বাইরেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রকল্পভিত্তিক শেখার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে পরীক্ষাগার স্থাপনের পাশাপাশি যন্ত্রপাতি ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনও আধুনিক প্রযুক্তিশিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটবিদ্যা, যন্ত্রশিক্ষণ ও সাইবার নিরাপত্তার মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
তবে শিক্ষাবিদরা মনে করেন, এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে হলে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু পরিবর্তনের পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রস্তুত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং, তথ্য বিশ্লেষণ, যন্ত্রের কার্যপদ্ধতি বোঝা এবং প্রকল্প পরীক্ষা করার সুযোগ দিতে হবে। অন্যথায় প্রযুক্তির নতুন বিষয় পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হলেও বাস্তব দক্ষতা তৈরির লক্ষ্য পূরণ কঠিন হবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫ অনুযায়ী, দেশের ৭২ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারের বাড়িতে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। একই জরিপে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে অন্তত একটি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি দক্ষতা রয়েছে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশের। তবে এই তথ্য সরাসরি স্কুলপড়ুয়া শিশুদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বা বিজ্ঞানমেলায় অংশগ্রহণের হার নির্দেশ করে না।
বিজ্ঞানমেলা থেকে গবেষণার পথে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের এসব প্রকল্পের মধ্যে কৃষি, জ্বালানি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব সমস্যা নিয়ে কাজ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে একটি প্রদর্শনীকে কার্যকর উদ্ভাবনে রূপ দিতে হলে পরীক্ষাগার, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ধারাবাহিক সুযোগ তৈরি করতে হবে।
বাংলাদেশের শিশুদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু সেই আগ্রহকে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতায় রূপ দিতে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রয়োজন। সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করার স্বাধীনতা, ভুল থেকে শেখার পরিবেশ এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজার সুযোগ তৈরি করা গেলে বিজ্ঞানমেলার উদ্যোগ দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলার একটি কার্যকর ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকানিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. মো. মেহেদী হাসান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘বিজ্ঞানমেলায় শিক্ষার্থীরা কী তৈরি করছে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এ ধরনের কাজে তাদের সৃজনশীলতা ও চিন্তাশক্তি কতটা বাড়ছে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অনেক সময় আগে থেকে থাকা কোনো ধারণা থেকে নিয়ে বা অন্যের কাছ থেকে শিখে প্রকল্প তৈরি করে। তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তারা নতুন কিছু চিন্তা করতে, সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজতে এবং নিজেদের মেধা কাজে লাগাতে শেখে। শিক্ষার্থীরা কতটা সৃজনশীলভাবে চিন্তা করছে এবং নতুন কিছু তৈরিতে নিজেদের মেধা কতটা কাজে লাগাচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানমেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি বিকাশের যে সুযোগ তৈরি হয়, তা ভবিষ্যতে তাদের নতুন উদ্ভাবনের পথ দেখাতে পারে।’
এই শিক্ষক বলেন, ‘স্কুল পর্যায়ে বিজ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীল উদ্যোগ বাড়াতে সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রতিবছর স্কুলগুলোতে বিজ্ঞানমেলা আয়োজন, নতুন কিছু তৈরির প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করতে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হলে অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের আগ্রহ ও পরিবারের সহযোগিতায় এসব প্রকল্প তৈরি করছে।’
বিভিন্ন বিজ্ঞানমেলায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সাধারণত নিজেদের উদ্যোগে প্রকল্প তৈরি করে এবং এ ক্ষেত্রে পরিবারের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারি সহায়তা যুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি সুযোগ পাবে এবং বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পরিসরও বাড়বে।’
দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে ড. মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে শিক্ষা, বই এবং অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতেই সরকারকে বড় ব্যয় বহন করতে হয়। ফলে স্কুল পর্যায়ে বিজ্ঞানচর্চার জন্য আলাদা বরাদ্দ দেওয়া সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তারপরও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে সরকার পরিকল্পনা নিতে পারে। বিশেষ করে প্রতিবছর স্কুলগুলোতে বিজ্ঞানমেলা ও সৃজনশীল প্রকল্প তৈরির কার্যক্রম চালু রাখার ব্যবস্থা করা গেলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আগ্রহ বিকাশের আরও সুযোগ পাবে। এতে বিজ্ঞানচর্চা কেবল ব্যক্তিগত আগ্রহ ও পারিবারিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।’
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল হক ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘শিশু ও তরুণদের মধ্যে অনেক প্রতিভাবান উদ্ভাবক রয়েছে। তারা নিজেদের উদ্যোগে নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করছে। এসব উদ্ভাবনী উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে বেসরকারি খাতকে প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে। সরকার সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনার মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে পারে।’
বুয়েটের এই অধ্যাপক বলেন, ‘তরুণ উদ্ভাবকদের সহায়তা দেওয়ার আগে তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন। কোনো উদ্যোগে অর্থ ব্যয়ের পর পাঁচ বছর মেয়াদে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা যেতে পারে। প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কী ফল পাওয়া গেছে এবং আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। ভালো ফল পাওয়া গেলে সেই উদ্যোগকে বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়া উচিত। যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়া সরকারি সহায়তা দিলে অর্থের অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি থাকে।’
ড. শামসুল হক বলেন, ‘গুগল ও মেটার মতো বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান প্রতিভাবান তরুণদের খুঁজে বের করে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করে। তাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এভাবে মেধাবীদের শনাক্ত করে কাজের সুযোগ দিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে শুধু অন্যের প্রযুক্তি অনুসরণ না করে নিজস্ব উদ্ভাবন বাড়াতে হবে।’
এই বিশেষজ্ঞের মতে, তরুণদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎসাহিত করতে সরকারকে বেসরকারি খাতের জন্য কার্যকর নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা দিতে হবে। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অর্থও তরুণদের গবেষণা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। এতে সুযোগের অভাবে পিছিয়ে থাকা প্রতিভাবান তরুণেরা নিজেদের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ পাবেন। দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়বে এবং অন্যের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানোর পথ তৈরি হবে।
এএইচ/জেবি




