- স্বাস্থ্য খাতে আসছে ডিজিটাল বিপ্লব
- এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছে ১১৪ স্বাস্থ্যসেবা
- চালু হচ্ছে জাতীয় ডিজিটাল হেলথ কার্ড
- এআইভিত্তিক ই-প্রেসক্রিপশন চালুর পরিকল্পনা
- এক ক্লিকে মিলবে রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস
- কমবে একই পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি
দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে প্রযুক্তিনির্ভর, সমন্বিত এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থায় রূপ দিতে একগুচ্ছ উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ হাতে নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি ধাপকে একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার মাধ্যমে রোগী ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা, রেফারেল, ওষুধ সরবরাহ, আর্থিক লেনদেন এবং নীতিনির্ধারণকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে চালু থাকা ১১৪টির বেশি ডিজিটাল স্বাস্থ্য উদ্যোগকে একীভূত করা, জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ গঠন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ই-প্রেসক্রিপশন, কেন্দ্রীয় রোগী ডাটাবেইস, জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক এবং সর্বজনীন ডিজিটাল হেলথ কার্ড চালুর মতো একাধিক প্রকল্প এখন প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বাজেট প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি, বিপুলসংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের ভিত্তি গড়ে তুলতে চায় সরকার।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ‘স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটাল রূপান্তর কর্মসূচির প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে প্রায় ১৫৯ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান বিচ্ছিন্ন ডিজিটাল স্বাস্থ্য উদ্যোগগুলোকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হবে। একই সঙ্গে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতাল পর্যন্ত পাঁচ স্তরের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেবাকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বিভিন্ন অধিদফতর ও প্রতিষ্ঠানের অধীনে আলাদা আলাদা ডিজিটাল সিস্টেম চালু থাকলেও সেগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে একই রোগীর তথ্য একাধিকবার সংগ্রহ করতে হয়, চিকিৎসার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় এবং নীতিনির্ধারণেও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি দেখা দেয়। নতুন প্রকল্পের আওতায় বেসলাইন জরিপ, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল স্বাস্থ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে একটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা তথ্য ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত মান, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ডেটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে খুলনা জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং প্লাস্টিকভিত্তিক স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে। পরবর্তী সময়ে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এটি পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের সামাজিক অবকাঠামো বিভাগে অনুষ্ঠিত বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা হয়েছে। সভায় ডেটা নিরাপত্তা, গোপনীয়তা সুরক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব স্পষ্ট করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে বিদ্যমান কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দায়িত্বের দ্বৈততা সৃষ্টি না হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিচ্ছিন্ন তথ্যভাণ্ডার। একজন রোগী জেলা হাসপাতাল থেকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে পূর্ববর্তী চিকিৎসার তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই পাওয়া যায় না। একই পরীক্ষা একাধিকবার করতে হয়, রোগীর সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হয়। নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হলে দেশের যেকোনো সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস, পরীক্ষার ফল, প্রেসক্রিপশন, রেফারেল এবং ফলোআপ সংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যাবে। এতে চিকিৎসার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনাও অনেক বেশি কার্যকর হবে।
এ উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন চালু করা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসকের দেওয়া প্রতিটি প্রেসক্রিপশন ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হবে এবং রোগীর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ইতিহাস তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রেসক্রিপশন অডিট চালুর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, একই রোগীর জন্য একাধিক প্রেসক্রিপশন কিংবা চিকিৎসা-সংক্রান্ত অনিয়ম পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মেইলকে বলেন, ই-প্রেসক্রিপশন চালু হলে চিকিৎসকদের ফি গ্রহণ, প্রেসক্রিপশন প্রদান এবং রোগী দেখার একটি নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি হবে। এতে চিকিৎসাসেবায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, রোগীর তথ্য সংরক্ষণ সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নে বাস্তবভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, প্রেসক্রিপশন, রোগী রেফারেল, ওষুধ সরবরাহ, বিলিং ও আর্থিক লেনদেনকে একই ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা চলছে। বিষয়টি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও স্থান পেয়েছে। ইশতেহারে ডিজিটাল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন, প্রেসক্রিপশন অডিট, ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, রিয়েল-টাইম রেফারেল সিস্টেম এবং জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং জাতীয় ডিজিটাল কল সেন্টার প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
আরও পড়ুন
বছরের পর বছর চলমান আট মেগা প্রকল্প!
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা মূলত রোগের চিকিৎসাকেন্দ্রিক ছিল। এখন সেই ধারা থেকে বেরিয়ে প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিতে চায় সরকার। এজন্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং মা ও নবজাতকের সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মিডওয়াইফ নিয়োগের আগে তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে, যাতে মাঠপর্যায়ে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও বলেন, দেশের কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করা হবে না। বরং বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে একটি সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের আওতায় এনে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে মানুষের বাড়ি বাড়ি সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর টিকাদান, পুষ্টি এবং প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে। পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব মিডওয়াইফসের ৩৪তম আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে বাংলাদেশের এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারের এই স্বাস্থ্য সংস্কারের প্রতিফলন দেখা গেছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটেও। আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ০১ শতাংশের সমান এবং পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যখাতে সরকারি ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় প্রতিটি নাগরিককে পর্যায়ক্রমে একটি ডিজিটাল হেলথ কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস, পরীক্ষার ফলাফল, প্রেসক্রিপশন ও রেফারেল তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে দেশের যেকোনো সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় তথ্য দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা বৃদ্ধি, জেলা হাসপাতালে বিশেষায়িত চিকিৎসা সম্প্রসারণ, জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গঠন, পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগ এবং এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষার আধুনিকায়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে নতুন যোগ্যতাভিত্তিক এমবিবিএস শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ঋণ চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ল্যাবরেটরি, গ্রন্থাগার, আবাসিক হল এবং প্রশিক্ষণ সুবিধা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের চিকিৎসকদের আরও দক্ষ করে গড়ে তোলা যায়।
স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বেসরকারি খাতও আশাবাদী। অ্যাবটের কোর ডায়াগনস্টিকসের ডিস্ট্রিবিউটর অপারেশন ম্যানেজার চন্দ্রেশ মাদানি বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং বুদ্ধিমান ডায়াগনস্টিকসের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবায় দ্রুত পরিবর্তন আসছে। এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম চিকিৎসক, প্রযুক্তিবিদ এবং স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের বৈশ্বিক উদ্ভাবনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে। এর মাধ্যমে রোগ নির্ণয়ের নির্ভুলতা বাড়ানো, পরীক্ষার সময় কমানো এবং রোগীসেবার মান উন্নয়ন সম্ভব হবে।
মেডিপ্যাক টেকনোলজিস লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন জিয়া ঢাকা মেইলকে বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। ডিজিটাল সংযোগ এবং স্মার্ট ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থার মাধ্যমে হাসপাতালগুলো আরও দক্ষ, দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে সেবা দিতে পারবে। এতে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে এবং রোগীরাও উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে প্রযুক্তিকেন্দ্রিক নয়, বরং মানুষকেন্দ্রিক একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু নতুন অ্যাপ, স্মার্ট কার্ড বা তথ্যভান্ডার চালু করা হওয়া উচিত নয়। বরং এমন একটি সংযুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে একজন রোগীর চিকিৎসাযাত্রা কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে হাসপাতাল, প্রেসক্রিপশন থেকে ফার্মেসি এবং প্রতিরোধমূলক সেবা থেকে ফলো-আপ চিকিৎসা পর্যন্ত একই কাঠামোর আওতায় থাকবে।
সিপিডির মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডিজিটাল গণ-অবকাঠামো স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান বৈষম্য কমাতে, অতিরিক্ত কর্মচাপে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা করতে, জবাবদিহিতা বাড়াতে এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সফটওয়্যার বা প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা সফল করা সম্ভব নয়। এর জন্য নিরাপদ তথ্য সংরক্ষণ, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা, নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট অবকাঠামো, প্রশিক্ষিত জনবল, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং অভিন্ন তথ্যমান নিশ্চিত না হলে ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার পূর্ণ সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং মানুষের কাছে সহজলভ্য করে তুলতে পারে। তবে এর জন্য মাঠপর্যায়ের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত ও সমাধান করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে ডিজিটাল গণ-অবকাঠামোকে কীভাবে স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করা যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারা ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে দক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
সিপিডির প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট প্রীতিলতা খন্দকার হক বলেন, গ্রামীণ এলাকায় সীমিত ডিজিটাল অবকাঠামো, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতার ঘাটতি, সুশাসনের অভাব এবং প্রশাসনিক জটিলতা স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি সংযুক্তির বড় বাধা। ইএমআইএস, এইচআরআইএস ও ডিএইচআইএস-২-এর মতো একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু থাকলেও সেগুলোর মধ্যে কার্যকর আন্তঃসংযোগের অভাবে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
এএইচ/জেবি




