নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের স্মরণে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।
নেপালে ভয়াবহ এ দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সংহতি জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় সবাই মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির তার বক্তব্যে বলেন, নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রতি আমরা গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছি। বাংলাদেশ এবং যবিপ্রবি পরিবার সর্বদা নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছে। বিশেষ করে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীদের মানসিক, শারীরিক কিংবা আর্থিক যেকোনো প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
যবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাই এবং তাদের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। নেপাল আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধুরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি রয়েছে সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা। যবিপ্রবিতে নেপালের অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কামনা করছি। যবিপ্রবি সবসময় নেপালি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের পাশে রয়েছে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেপালি শিক্ষার্থী সুয়োগ শ্রেষ্ঠা বলেন, আজ আমরা এখানে গভীর শোক নিয়ে একত্রিত হয়েছি। নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই। স্বজন ও ঘরবাড়ি হারানো মানুষগুলোর কষ্ট আমরা অনুভব করছি। দূরে থেকেও আজকের এই মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে তাদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা, সমবেদনা ও সংহতি জানাতে চাই।
এ ছাড়াও কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর , ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দফতরের পরিচালক, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা নেপালে নিহতদের স্মরণে নেপালি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কর্মসূচি শেষে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশা জানান তারা।
এফএ





