সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

চীন সফর শেষে শিক্ষা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা শিক্ষামন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

চীন সফর শেষে শিক্ষা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা শিক্ষামন্ত্রীর
চীন সফর শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন / সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) ব্যবস্থার আধুনিকায়নে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আধুনিক গবেষণাগার, চীনা ভাষা শিক্ষা, শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ এবং কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) চীন সফর শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে এসব পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। 

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল গত ২৬ থেকে ২৮ আগস্ট চীন সফর করেছে। প্রতিনিধি দলে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া ছিলেন।

সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল চীনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া। পাশাপাশি বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আধুনিক কারিগরি গবেষণাগার ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা স্থাপন এবং চীনা ভাষাসহ কারিগরি শিক্ষা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়।

সফরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যেই প্রথম ব্যাচের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সময়ে চীনা ভাষা শিক্ষা এবং চীনে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের একটি পাইলট কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২৭ সালের মধ্যে গাজীপুরে জাতীয় কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমি ও গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সময়ে মিরসরাইকে জাতীয় কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আর ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের টিভেট ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। এক্ষেত্রে আধুনিক কারিগরি গবেষণাগার ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সফরে বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতায় বেশ কয়েকটি উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘তিয়ানগং’ জিয়াংসি কারিগরি শিক্ষা আন্তর্জাতিক জোটের সদস্যপদ, চীন-বাংলাদেশ শিল্প-শিক্ষা সমন্বয় আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্র, চীন-বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা গবেষণা কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ চীনা ভাষা ও কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতা কেন্দ্র।

এ ছাড়া দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ গবেষণা, যৌথভাবে মাস্টার্স ও ডক্টরাল প্রোগ্রাম পরিচালনা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় এবং সরকারি সহায়তায় বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন এবং চীনা ভাষার শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি যৌথভাবে কারিকুলাম উন্নয়ন এবং দ্বিভাষিক শিক্ষা-উপকরণ প্রণয়ন ও ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

চীনে প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি বাংলাদেশে কার্যরত চীনা শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি পর্যায়ে এ সহযোগিতা সমন্বয়ের জন্য নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনের মতো কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি চীনে বাংলাদেশ টিভেট সেবা কার্যালয় স্থাপনের বিষয়টিও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা কাঠামোর অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে।

সফর-পরবর্তী পরিকল্পনায় কারিগরি শিক্ষাকে শিল্প ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের আধুনিক দক্ষতায় দক্ষ করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এমএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর