সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

গবেষণার পরিমাণ বাড়াতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা ইউজিসির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

গবেষণার পরিমাণ বাড়াতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা ইউজিসির

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুণগত ও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা বাড়াতে পিএইচডি ও পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। একই সঙ্গে গবেষণা খাতে বিশেষ বরাদ্দ বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কার্যকর গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ইউজিসির ১৭৯তম পূর্ণ কমিশন সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব কথা বলেন।

ড. মামুন আহমেদ বলেন, ইউজিসির নিজস্ব পিএইচডি স্কলারশিপের সংখ্যা ৭৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশে পিএইচডি করার সুযোগও ১০টি থেকে বাড়িয়ে ৩৫টি করা হয়েছে। পাশাপাশি পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপের সংখ্যাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণায় বিশেষ বরাদ্দের জন্য আগামী অর্থবছরে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে বলেও জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুণগত শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি পিএইচডির সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। গুণগত গবেষণা নিশ্চিত করতে ইউজিসি গবেষণাবান্ধব ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করেছে এবং অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি পিএইচডির সুযোগ সম্প্রসারণ করছে।

তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনতে গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান কার্যক্রমে পরিণত করতে চায় ইউজিসি। শুধু গবেষণার পরিমাণ বাড়ানো নয়, এর মান, প্রভাব ও ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাও কমিশনের অগ্রাধিকার।

গবেষণার জন্য দক্ষ ও যোগ্য গবেষক তৈরি, আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তোলা, পর্যাপ্ত ও টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং দেশি-বিদেশি গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যে গবেষণার সাফল্য সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধান এবং শিল্প ও অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে গবেষণাকে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ, যৌথ গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও উদ্ভাবনের বাণিজ্যিক ও সামাজিক প্রয়োগ উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

গবেষণায় অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মদক্ষতা, অর্জন ও গবেষণার ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ। ভবিষ্যতে গবেষণায় বিনিয়োগ আরও কৌশলগত ও ফলাফলভিত্তিক করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, যে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখবে, তাদের গবেষণা সক্ষমতা বাড়াতে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

আলোচনা সভায় ‘ইউজিসি প্রমোশনাল অ্যান্ড একাডেমিক স্টাফ ডেভেলপমেন্ট গবেষণা প্রকল্প নীতিমালা, ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ সময় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন ও অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ইউজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর